চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নওয়াজ আমাকে কখনই স্ত্রী হিসেবে প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয়নি: আলিয়া সিদ্দিকী

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর স্ত্রী আলিয়া সিদ্দিকী দশ বছরের দাম্পত্যের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লকডাউনের মধ্যে নওয়াজউদ্দিনকে ডিভোর্সের নোটিশও পাঠিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনের কারণগুলো।

আলিয়া বলেন, ‘এতগুলো বছর একাই সব ম্যানেজ করেছি। আমার ভাতিজি আমার সাথে থাকে। বেশিরভাগ সময়েই নওয়াজ থাকতো না। শুটিং শেষে দায়িত্ববান স্বামীর মতো ফিরতো না। আমি কোথাও গেলে ভাতিজির কাছে রেখে যেতাম সন্তানদের। কখনোই গৃহকর্মির কাছে রেখে যাইনি। ৪-৫ বছর এভাবেই চলেছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, বাবার কথা সন্তানদের মনে পড়লেও তার কিছু করার থাকতো না। ‘বাবা কোথায়?’ সন্তানদের এই প্রশ্নে আলিয়া বলতেন, ‘বাবা নিউইয়র্কে শুটিং করছে।’ কিন্তু আলিয়ার প্রশ্ন, এভাবে আর কত ধোকা দেয়া সম্ভব সন্তানদের। মুম্বাইতে থেকেও সন্তানরা দেখতে চাইছে শুনলেও আসতেন না নওয়াজউদ্দিন। ব্যস্ততার অজুহাত দেখাতেন শুধু।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি পীযুষ পান্ডে নামের এক ব্যক্তির সাথে আলিয়ার সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যায়। আলিয়া জানান, এই গুঞ্জনের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি যেহেতু অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন, তাকে নিয়ে নানা গুজব রটবেই। নওয়াজের পরিবার তার বদনাম করার চেষ্টা করছে।

কঠিন সময়গুলোর কথা মনে করে আলিয়া বলেন, “নওয়াজ আমাকে অপমান করতো সবসময়। একদিন মনোজ বাজপেয়ী সহ বেশ কয়েকজন তারকা আমার বাড়ি এসেছিলেন। আমি নওয়াজের জন্য রান্না করছিলাম। তাদের গল্পে অংশ নিতে চেয়েছিলাম। তখন নওয়াজ আমাকে বললেন, ‘তুমি কথা বলতে জানো না, মানুষের সামনে কথা বলো না।’ সংবাদ সম্মেলনে আমাকে নিতেন না। যদি কোনোভাবে যেতাম, তিনি আমাকে এড়িয়ে চলতেন। নওয়াজ আমাকে কখনই স্ত্রী হিসেবে প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয়নি। রিকশাওয়ালা থেকে সুপারস্টার- সবাই তো স্ত্রীকে সম্মান করে। এতগুলো বছর কষ্ট করেছি, এত অপমান কখনই কাউকে করা উচিত না। সবসময়েই বলা হতো, আমি কিছুই না, কথা বলতে জানি না, দাঁড়াতে জানিনা, কেমন পোশাক পরতে হবে তা জানিনা, কতক্ষণ সহ্য করা যায়? আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম।”

আলিয়া জানান, নওয়াজুদ্দিন তার আত্মজীবনী ‘অ্যান অর্ডিনারি লাইফ: অ্যা মেম্যোর’ বইটি লেখার সময় তিনি মানা করেছিলেন। বলেছিলেন, অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে না লিখতে। নওয়াজ শোনেনি আলিয়ার কথা। পরে সমালোচনার মুখে এই বই তুলে নিতে হয়েছিল তাকে।

৭ মে আলিয়ার আইনজীবী নওয়াজউদ্দিনকে হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইমেইলের মাধ্যমে ডিভোর্সের জন্য আইনি নোটিশ দিয়েছেন। নওয়াজউদ্দিনের তরফ থেকে কোনো উত্তর এখনও আসেনি। তবে ১৫ দিনের মধ্যে উত্তর না পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আলিয়ার আইনজীবী।