চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধ্বংসাবশেষের সাথে সংঘর্ষ এড়াতে সরলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থা

একটি ধ্বংসাবশেষের আঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) নভোচারীদের মঙ্গলবার একটি ‘পরিহারের কৌশল’ অবলম্বন করতে হয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে স্টেশনটিকে একটু দূরে সরিয়ে নেয় তারা।

সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য স্টেশনটির কক্ষপথ ঠিকঠাক করতে এবং আরও একটু দূরে সরিয়ে নিতে আড়াই মিনিটের অভিযানে এক সাথে কাজ করেছিল রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইট কন্ট্রোলাররা।

বিজ্ঞাপন

নাসা জানিয়েছে, আইএসএস থেকে ১.৪ কিলোমিটার (প্রায় এক মাইল) দূর দিয়ে ওই ধ্বংসাবশেষ চলে যায়।

বিজ্ঞাপন

ক্রু-এর দুজন রাশিয়ান এবং একজন আমেরিকান নভোচারী অভিযান শুরু হওয়ার সাথে সাথে সয়ুজ মহাকাশযানের কাছাকাছি চলে যায় যেন প্রয়োজন পড়লে তারা সরে যেতে পারেন। নাসার মতে, এই সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল ‘প্রচুর সাবধানতার কারণে’।

তবে অভিযান শেষে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরত যেতে সক্ষম হয় মহাকাশচারীরা। নাসার প্রধান জিম ব্রিডেনস্টাইন টুইটারে বলেন, মহড়া অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। নভোচারীরা নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে বেরিয়ে আসছেন।

বিজ্ঞাপন

জ্যোতির্বিদ জনাথন ম্যাকডোয়েল টুইটারে জানান, হুমকিপূর্ণ এই টুকরোটি মূলত ২০১৮ সালের জাপানী রকেটের একটি অংশ ছিল। রকেটটি গত বছর ৭৭ টুকরো হয়ে গেছিল।

পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬০ মাইল (৪২০ কিলোমিটার) উপর দিয়ে ঘণ্টায় ১৭,০০০ কিলোমিটার বেগে প্রদক্ষিণ করছে আইএসএস। এ ধরনের গতিতে থাকার সময়ে একটি ছোট্ট বস্তুও সোলার প্যানেল বা স্টেশনটির যে কোনো দিকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

নিয়মিত ভিত্তিতে এই ধরণের অভিযান প্রয়োজন। নাসা জানিয়েছে, ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২৫টি এই রকম অভিযান চালানো হয়েছে। ব্রিডেনস্টাইন জানান, এই বছরেই আইএসএসের তৃতীয় অভিযান এটি।

গত ষাট বছর ধরে মহাকাশে পাঠানো উপগ্রহ, রকেট এবং অন্যান্য বস্তুর টুকরো টুকরো অংশ পৃথিবীর কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়ায় এই ধরনের অভিযান আরও ঘন ঘন করতে হচ্ছে।

২০১৯ সালে ভারত ও ২০১৭ সালে চীনের অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল উৎক্ষেপণসহ দুর্ঘটনাজনিত বা ইচ্ছাকৃত সংঘর্ষের কারণে অনেক কিছুই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ছে এবং সেসব ঝুঁকি আরো বাড়াচ্ছে।