চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধান কাটায় কৃষকের পাশে পুলিশ, ডিসি, ইউএনও এবং কৃষকদল

মহামারী করোনাভাইরাস এর প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মহীন হয়ে পড়ছেন অসংখ্য মানুষ। বিপাকে শ্রমজীবী ও কৃষকরা। অন্যদিকে মাঠে পেকেছে ধান। সেই ধান কেটে ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।

এমন প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন সংগঠন কৃষকের ধান কেটে দিয়ে সহযোগিতা করছে। প্রথমেই এগিয়ে এসেছে ছাত্রলীগ। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে এবং ধান কাটার মেশিন দিয়ে সহযোগিতা করছে বিভিন্ন জেলার পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। তাছাড়া ধান কাটায় যোগ দিয়েছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষকদলও।

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের বোরো ফসল রক্ষায় ধান কেটে সহযোগিতা করছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ প্রতিনিধিরা। তারা কৃষক-শ্রমিকদের উৎসাহ প্রদানের জন্য রাতে জলভাঙ্গা হাওরে গিয়ে এক কৃষকের ধান কেটে দেন।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ৪০টি কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে যেন কৃষকরা দ্রুত ধান কাটতে পারেন তার জন্য ধান কাটার জন্য কৃষকদের উৎসাহ প্রদান করছেন জেলা প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা চাচ্ছি কৃষকের শতভাগ ধান বন্যার আগে ঘরে তোলার ব্যবস্থা হোক। এতে কৃষকরা শান্তিতে থাকতে পারবেন।

এ বছর সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার ছোট-বড় ১৫৪টি হাওরে দুই লাখ ২০ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩লাখ মেট্রিক টন।

পিরোজপুর
জমির ধান সহজে কর্তন ও ধান চাষে খরচ কমানোর লক্ষে পিরোজপুরের নাজিরপুরে কৃষকদের মাঝে ফসল কর্তনও মাড়াই যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন) বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষকদের মাঝে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন হস্তান্তর করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম।

বিজ্ঞাপন

এ সময় মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার কৃষিবান্ধব সরকার।এ উপজেলায় চাষকৃত জমির ধান সহজে কর্তন ও ধান চাষে খরচ কমানোর জন্য সরকার কৃষকদের মাঝে ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে ফসল কর্তন ও মাড়াই যন্ত্র(কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন) বিতরণ করছে। তারই অংশ হিসেবে নাজিরপুরে এই মেশিন বিতরণ করা হলো। যাতে করোনা পরবর্তী সময়ে খাদ্য সংকট দেখা না দেয়। এই কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কম খরচে কৃষকরা ধান কাটতে পারবেন।

শেরপুর
বাইরের জেলার সাথে শেরপুরের যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। একপ্রকার ঘরবন্দি জীবনযাপন চলছে। কাজ না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের। এরই মধ্যে বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। ধানের বাম্পার ফলন হলেও করোনা আতঙ্কে ধানকাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ধানকাটা ও মাড়াই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। তবে শেরপুর জেলা পুলিশ রীতিমতো উৎসব করে কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছানো এমনকি মাড়াই করে গোলায় তুলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলা বাজিতখিলার বালিয়া গ্রামের কৃষক ছামেদুল হকের ৪০ শতক জমির ধান কাটার মধ্যদিয়ে ধানকাটা উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম।

এদিন বিকেলে নকলার উরফা ইউনিয়নের বারমাইসা গ্রামের কৃষক আবু রায়হানের ৬৫ শতক জমির পাকা ধানও কাটা হয়। জেলা পুলিশের মহতি এ কাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এগিয়ে এসেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলা স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা ধান কেটে দেওয়ায় খুশি কৃষকরা।

জেলায় এবার প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এবার ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বড় কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকও কৃষি কর্মকর্তারা।

গাজীপুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈর কৃষকদলের কর্মীরা শ্রমিক না পাওয়া অসহায় কৃষকের ধান কেটে দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

শুক্রবার উপজেলার শ্রীপুরে কৃষকদলের ৩০জনের একটি কর্মীবাহিনী নিয়ে আলম নামের এক কৃষকের ২ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে দেন।

এসময় ধান কাটায় নেতৃত্ব দেন করেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের  সদস্য ও বোয়ালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ভিপি ইব্রাহীম।

তিনি জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার কৃষকের জমির বোর ধান পেকে রয়েছে। তারা শ্রমিকের অভাবে তাদের পাকা ধান কাটতে পারছেন না। দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় লকডাউনের কারণে  এক এলাকার লোক অন্য এলাকায় যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। এ জন্য গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় আমরা কৃষকদের ধান কাটায় সহযোগিতা করছি। কালিয়াকৈরের যেখানেই শ্রমিকের অভাবে কৃষকরা তাদের ফসল কাটতে পারবেন না তারা সেখানেই কৃষকদলের কর্মীরা গিয়ে ফসল কাটায় সহযোগিতা করবেন।