চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধানের দাম নিয়ে সরকার চিন্তিত: কৃষিমন্ত্রী

মন্ত্রী বলছেন, এই সমস্যা সাময়িক

বর্তমান বাজারে ধানের মূল্য অস্বাভাবিক রকম পড়ে যাওয়ায় সরকার তা নিয়ে চিন্তিত মন্তব্য করে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আমরা এ অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি৷ এটা সাময়িক, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ সংঙ্কট কেটে যাবে।

শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত ‘কৃষকরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ধানের দাম নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন: ধানের দাম কমে যাওয়ায় সরকারের উচ্চ পর্যায় গভীর চিন্তিত। কৃষকরা কী শুধু ধানের দাম পান না? কৃষকরা যখন সবজি করে সবজির দাম পান না, এই কারওয়ান বাজারে…পত্র পত্রিকায় এ সংক্রান্ত খবর বহুবার এসেছে।

‘‘সুদূর ঈশ্বরদী থেকে কপি নিয়ে এসেছেন, কপির দাম পান না। কৃষকরা ট্রাক রেখে পালিয়ে গেছেন। টমেটোর ক্ষেত্রেও এরকম, টমেটো বিক্রি হয় না, দুই টাকা কেজি টমেটো। দশটা ফুলকপি পাঁচ টাকায় বিক্রি হয়। এদেশের কৃষকরা নানা অভাবে দুখী ছিলেন। শেখ হাসিনা কৃষক-শ্রমিকের জীবনের পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম লড়াই করছেন।’’

কৃষক ধানের দাম না পাওয়ার পেছনে উৎপাদন বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে এই যে ধানের দাম পাচ্ছেন না কৃষক; ধানের উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, গত বোরোতে অনেক ধান হয়েছে, আমন আমাদের টার্গেট ছিল এক কোটি চল্লিশ লাখ টন, সেটা বেড়ে হয়েছে এক কোটি ৫৩ লাখ টন। ১৩ লাখ টন ধানের উৎপাদন আমাদের টার্গেটের বেশি উৎপাদন হয়েছে। আলুর উৎপাদন আমাদের দরকার ৬০-৭০ লাখ টন, সেখানে উৎপাদন হয়েছে এক কোটি তিন লাখ টন। ৩৩ লাখ টন আলু বেশি হয়েছে, চাষিরা বিক্রি করতে পারছেন না। এটা কোন জাদু বলে হয় নাই, কোন আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপের আলোতে হয় নাই, এটা হয়েছে শেখ হাসিনার কৃষিবান্ধব কর্মসূচির জন্য, তার দূরদর্শিতার জন্য।

বিজ্ঞাপন

কৃষিমন্ত্রী বলেন: আজকে বাংলাদেশে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যায় না এবং শ্রমিক পাওয়া যায় না বলেই ধান চাষ করে মানুষের লাভ হচ্ছে না। এজন্য সরকার খুবই চিন্তিত। প্রধানমন্ত্রীসহ এ নিয়ে আমরা চিন্তা করছি।

‘‘শুধু আপনাদের বলতে চাই খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশে এখন যেখানে খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। সেখানে আমরা রপ্তানি করলে কৃষক দাম পাবে। কৃষকের এই সমস্যা সাময়িক। এই সমস্যারও সমাধান আমরা করবো। কিভাবে করবো, কৃষিকে আমরা বাণিজ্যিক কৃষি করবো, এই কৃষিকে আমরা বহুমুখী করবো। শুধু ধান না অন্যান্য অর্থকরী ফসলের দিকে নিয়ে যাবো। এই কৃষিকে আমরা যান্ত্রিকরণ করবো। আজ শ্রমিক পাওয়া যায় না, শ্রমিক আর দরকার হবে না। এই যান্ত্রিকরণের জন্য আমরা ভর্তুকি দিবো।’’

স্বদেশ প্রত্যাবর্তেনের আলোচনায় মন্ত্রী বলেন: ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যার পর নানামুখী ষড়যন্ত্র করেও আওয়ামী লীগকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। দেশের এমন কোনো পাড়া নেই, মহল্লা নেই যেখানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক নেই। দেশের সর্বত্র বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক থাকাতেই সেই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি দেশে ফিরে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

তিনি আরও বলেন: শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন বলেই বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার হয়েছে। আওয়ামী লীগ বরাবরই আইনের শাসনে বিশ্বাসী হওয়ায় বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ না নিয়ে বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করেছে।

কৃষক লীগের সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ।

Bellow Post-Green View