চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধর্ষণ মহামারি বন্ধের উপায় কী?

ধর্ষণবিরোধী প্রবল জনমত সত্ত্বেও দেশে এ ঘৃণ্য অপরাধটি বলতে গেলে মহামারি আকারে রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। এর অনেকগুলো গণমাধ্যমের খবরে না আসলেও যেগুলো আসছে তার সংখ্যাও অনেক। শনিবারও দেশব্যাপী ধর্ষণের শিকার হওয়া কয়েকটি ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এরমধ্যে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তারের খবরও রয়েছে।

চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়, ‌‘পটুয়াখালীতে ঘুমন্ত দুই শিশু সন্তানের পাশে হাত মুখ বেঁধে রেখে এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চর মোন্তাজ ইউনিয়নের চর মার্গারেট গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই নারী এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে শাকিল এবং হাদিব নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’

বিজ্ঞাপন

ধর্ষণ দিন দিন এমন মহামারি আকারে রূপ নিচ্ছে যে, এখন চাচার কাছেও মেয়ে সমতূল্য ভাতিজি নিরাপদ নয়। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে সিলেটে। সেখানকার বিশ্বনাথে আপন ভাতিজিকে ধর্ষণের অভিযোগে চাচাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার সকালে বিশ্বনাথ থানায় ভিকটিম নিজে বাদি হয়ে চাচা আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। মামলার পরপরই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে কক্সবাজার সদরে এক কিশোরীকে অপহরণ করে ‘দেড় মাস আটকে রেখে ধর্ষণ’ এর অভিযোগে মূল অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার এবং ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। চ্যানেল আই অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে। ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।

এত সংকট আর খারাপ খবরের মধ্যেও ইতিবাচক কর্মকাণ্ড করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে দেশব্যাপী সমাবেশ করেছে পুলিশ। দেশজুড়ে ৬ হাজার ৯শ’ ১২টি বিট পুলিশিং এলাকায় এ কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও মসজিদের ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এমন অবস্থান গ্রহণ করায় আমরা বাংলাদেশ পুলিশকে সাধুবাদ জানাই। আমরা মনে করি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হলে ধর্ষণ অনেকাংশে কমে যাবে। এজন্য তাদের আরও বেশি সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।

তবে এরমধ্যে ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনা ঘটেছে ফেনীতে। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর সেই ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ শীর্ষক লংমার্চ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্ষণ ও নিপীড়ন বন্ধে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া দ্রুত বিচারেরও বিকল্প নেই। এর পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে ধর্ষণ শূন্যের কোটায় আসবে বলে আমরা মনে করি। এজন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।