চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধর্ষণ চেষ্টার মামলা না নেওয়ায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিট

‘ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যা চেষ্টার’ অভিযোগের মামলা না নেওয়ায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

এই রিটে মামলা না নেওয়ার ঘটনায় বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেছেন নাগরপুর উপজেলার বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম। আগামী সপ্তাহে রিট আবেদনটির শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারি আইনজীবী।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই রিট আবেদনে বলা হয়েছে, টঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার কাঁচপাই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে আসমি মতিউর রহমান দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েটিকে উত্যক্ত করে আসছিল। এক পর্যায়ে মতিউর মেয়েটিকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মেয়ের বাবা তাতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে মতিউর ঘরে ঢুকে ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে চাকু দিয়ে গলা কেটে মেয়েটিকে হত্যার চেষ্টা করে মতিউর। কিন্তু মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশিসহ লোকজন ছুটে আসলে মতিউর পালিয়ে যায়। পরে মেয়টিকে নাগরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পরে সেখানেই মেয়েটির চিকিৎসা হয়।

এই ঘটনার পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর মেয়েটির বাবা নাগরপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ লিখিত অভিযোগে মেয়েটির বাবার সাক্ষর রেখে দেয়। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশরাফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেন মেয়েটির বাবা। পরে এই আইনজীবী জাতীয় নারী শিশু ও নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের সাথে যোগাযোগ করলে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার সহযোগিতায় মেয়েটির বাবা গত ৭ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। সে মামলায় একমাত্র আসামি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির‌্যতন দমন আইনের ৯(৪)(খ) এবং দণ্ডবিধির ৩২৬, ৩০৭ ও ৪৬০ ধারার অভিযোগ আনা হয়।

অন্যদিকে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ফৌজদারী কার্যবিধির ৪(১)(চ) ধারা এবং বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধান ১৯৪৩ এর ২৪৩ ধারা অনুযায়ী এই রকম আমলযোগ্য ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নিতে বাধ্য। কিন্তু নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ ২২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও মামলা না নিয়ে এবং আসামি বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া নাগরপুর থানা মেয়ের বাবার অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেজিস্টার করেনি। তাই নাগরপুর থানা পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করা হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, টাঙ্গাইলের মূখ্য বিচারিক হাকিম, পুলিশ প্রধান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নাগরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিবাদি করা হয়েছে।