চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধর্ষণের শাস্তি হোক দৃষ্টান্তমূলক

ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুর পর শোকাবহ অবস্থায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছে দেশবাসী। এবারের বৈশাখের মঙ্গলযাত্রার স্লোগানও ছিল ‌‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’। অথচ এমন দিনেও ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর আমরা দেখেছি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ‘চুয়াডাঙ্গার পৌর এলাকায় সুজিত কর্মকার নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন এক কলেজছাত্রী। মামলার পর পুলিশ ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। এখন তিনি কারাগারে আছেন।

বিজ্ঞাপন

ধর্ষণের শিকার ওই কলেজছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আজ আদালতের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

এছাড়াও নোয়াখালীতে দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করা হয়েছে গত সপ্তাহে। ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা জানান: ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাটেশ্বর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হলেও রাতে তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বুধবার সকালে সোনাইমুড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে।

এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দৌলতপুর গ্রামের একটি পুকুর পাড় থেকে মধ্যরাতে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাইমুড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বৃহস্পতিবার ভোরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও ধর্ষণের শিকার অনেক নারী নানা কারণে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন না। তবে ধর্ষণের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রবল জনমত গড়ে উঠলেও বিষয়টি একেবারে বন্ধ হচ্ছে না। এ বিষয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে আমরা মনে করি।

এক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ায় কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অপরাধীরা মূলত এই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে থাকে।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআই প্রধানের কথায়ও করুণ এ চিত্র উঠে এসেছে। শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বনোজ কুমার বলেন: ‘এর আগেও নুসরাতের চোখে চুন মারা হয়েছিল। সেই ঘটনা তারা চাপা দিতে পেরেছিলো, এমনকি ২৭ মার্চের ঘটনাও সামলে নিয়েছিলো। এর ফলে তারা ভেবেছিল, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পর বিষয়টি সামলে নিবে।’

পিবিআই প্রধানের এ কথাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা তার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলতে চাই, ভবিষ্যতে কোনো ঘটনায় অপরাধীরা যাতে এভাবে নিজেদের অপকর্ম সামলে নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা মনে করি, ধর্ষণের প্রত্যেকটি ঘটনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারলে এ অপরাধ শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। তাই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।