চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধর্ষণের ভয়াবহ তথ্য হাইকোর্টে

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় বেশ আলোচিত, একটি হচ্ছে সড়কে হত্যা আর অন্যটি ধর্ষণ-গণধর্ষণ। সেই ধর্ষণের একটি ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে পুলিশপ্রধানের পক্ষে হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে। গত ৫ বছরে দেশের বিভিন্ন থানায় ২৬ হাজার ৬৯৫টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে।

ধর্ষণের ঘটনা চরম আলোচিত বা ধর্ষণের পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেই তা সাধারণত জানাজানি হয়, নয়তো আইনের খাতায় লেখা হয়। এর বাইরে সমাজ ও লোক লজ্জার ভয়ে বহু ঘটনা চাপা পড়ে যায়। করোনার মতো বহু রোগ-জীবাণু মানুষকে আক্রমণ করে আসছে যুগের পর যুগ ধরে, তবে সেসব জীবাণু নিয়ন্ত্রণে আনতে মানুষ তার জ্ঞান-বিজ্ঞান কাজে লাগিয়ে একসময় সফল হয়। কিন্তু ধর্ষণকাণ্ডের বিষয়টা যেন সম্পূর্ণ উল্টো, এটা যেন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দেশে গত ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে পুলিশের হিসেব ও তথ্য অনুসারে, থানায় ধর্ষণের মামলা দায়েরের সংখ্যা বাড়ছে। যার মধ্যে গত দুই বছরে বেশি মামলা হয়েছে। ২০১৬ সালে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ৪ হাজার ৩৩১টি। ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৬৮৩টি। ২০১৮ সালে হয় ৪ হাজার ৬৯৫টি মামলা। ২০১৯ সালে ৬ হাজার ৭৬৬টি মামলা করা হয়। গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষণের অভিযোগে ৬ হাজার ২২০টি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ৫ বছরে থানায় দায়ের হওয়া ধর্ষণের মামলা ২৬ হাজার ৬৯৫টি।

ধর্ষণের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা, সালিস বা মীমাংসা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং ইতিপূর্বে এ বিষয়ে দেওয়া তিনটি রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন চেয়ে গত বছরের ১৯ অক্টোবর আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে একটি রিট করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২১ অক্টোবর হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। সেদিন হাইকোর্ট ধর্ষণের ঘটনায় মধ্যস্থতা, সালিস বা মীমাংসা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় গত পাঁচ বছরে সারা দেশের থানা, আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কতগুলো মামলা হয়েছে, তা জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। চার মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সে অনুসারে পুলিশপ্রধান (আইজিপি) ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ বুধবার এ প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়।

ধর্ষণের কারণ হিসেবে অপসংস্কৃতির প্রভাব এবং আইনের শাসন প্রয়োগের দুর্বলতাকে দায়ী করা হয়ে থাকে নানা প্রেক্ষাপটে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিষয়ক আইনগুলোর সঠিক প্রয়োগ ও সামাজিক-প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের ধর্ষণ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো দরকার বলে আমরা মনে করি। তাহলে হয়তো ধর্ষণ নামক এই ঘৃণিত অপরাধ ধীরে ধীরে কমে আসবে।

বিজ্ঞাপন