চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দ্রুত মুছতে হবে কলঙ্ক চিহ্ন

সময়টা কম না। প্রায় এক দশক। সেই ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি। সেদিন জাতির পিতার পাঁচ খুনিকে একের পর এক ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হয়েছিল। এরপর ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল। দীর্ঘ বছর পর আরেক খুনিকে ঝুলতে হলো ফাঁসির দড়িতে। এরপর কবে? এখনো জীবিত পিতার পাঁচ খুনি।

টানা প্রায় এক যুগ ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত ৬ খুনির ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে পেরেছে। এর মধ্যে ১০ বছর আগে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের এবং ১০ বছর পর ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হয়।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও কেন সরকার বঙ্গবন্ধুর সব খুনিকে এখনো ফিরিয়ে আনতে পারলো না? আমরা জানি, এই খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকরের জন্য আইন, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে শক্তিশালী একটি কমিটি আছে। সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা কাজ করছে। মাঝে মধ্যে কমিটির কেউ কেউ দাবি করে বসেন, খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। কিন্তু নানান কূটনৈতিক তৎপরতার পরও শেষ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। ফল শূন্য থাকে সব পদক্ষেপ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আবদুল মাজেদের বিষয়টা ভিন্ন। যদি সরকারের দাবি আমরা মেনে নেই, তাহলে তাকে ধরার ক্ষেত্রে ওই কমিটির কোনো কৃতিত্ব নেই। স্বেচ্ছায় দেশে আসার পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের বিশেষায়িত একটি ইউনিট। আর এখনো যে পাঁচ খুনি এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী, খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেম উদ্দিন বিদেশে পালিয়ে আছে- তাদের মধ্যে মাত্র দুইজনের অবস্থান সরকার নিশ্চিত করতে পেরেছে। নূর চৌধুরী কানাডায় এবং রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে। বাকি তিন খুনির অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

তার মানে এত বছর ধরে দেশে ফিরিয়ে আনা তো দূরের কথা, খুনিদের অবস্থানও নিশ্চিত করতে পারেনি ওই কমিটি। যদিও কমিটির নেতৃত্বে থাকা আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আজকেও আশার বাণী শুনিয়ে বলেছেন, ‘মাজেদের ফাঁসি অনেক স্বস্তির। তবে কাজ শেষ হয় নি। এখনো যারা পলাতক আছে তাদেরকে ধরে এনে এই রায় কার্যকর করা হবে।’

আমরা মনে করি, খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে ওই কমিটিকে আরও বেশি তৎপরতা চালাতে হবে। শুধু প্রতিশ্রুত নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বুঝতে হবে ওরা দেশি-বিদেশি শক্তিশালী এক চক্রের ছত্রছায়ায় বীরদর্পে টিকে আছে। আমাদের আফসোস ৪৫ বছর আগে জাতির পিতাকে হত্যা করে ওরা আজও বেঁচে আছে। জাতির কপালে লেগে থাকা এই কলঙ্ক চিহ্ন দ্রুত মুছে ফেলতে হবে।