চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বাড়ির মালিকদের এধরণের আচরণ কাম্য নয়

ঢাকায় অনেক বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে এই ক্রান্তিকালে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা তাদের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা ডাক্তার নার্স ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে অসদাচারণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যে সকল ডাক্তার নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখন বিশ্ব মহামারী করোনা মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি ঢাকার বাড়ির মালিকদের ওই ধরণের আচরণ অমানবিক এবং অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। অনেকে আবার স্বাস্থ্যকর্মী ভাড়াটিয়াদের তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলেছেন, অনেকে বাসায় ঢুকতেও দিচ্ছেন না। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে যখন সকলের ঐক্য দরকার, তখন এ আচরণ প্রমাণ করে দেয় আমরা এখনও কতটা অসভ্যততার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া প্রচলিত বাড়িভাড়া সংক্রান্ত ও ভোক্তা আইনে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে।

বিষয়টিতে স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে হয়েছে, “চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের যেসব বাড়িওয়ালা নিগৃহীত করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।” আইনী ব্যবস্থার কথা শুধু বললেই হবে না দ্রুত এ বিষয়ে আমরা সরকারের পদক্ষেপ দেখতে চাই। কারণ দেশের সংকটকালে মানুষের ভেতর ভীষণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এই ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বাড়িওয়ালাদের হেনস্তা চিত্র উঠে এসেছে। আর তাতে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া বাড়ির মালিকদের অর্থের উৎস খুঁজে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে, বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাসা থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। কোথাও আবার বাসা থেকে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আমরা যদি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পাই তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো। দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন: অভিযুক্ত বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে দুদকের সব ধরণের আইনের প্রয়োগ করা হবে। কোনোভাবেই এই মুহূর্তে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না।

যখন সমগ্র দেশ একটি দুঃসময় অতিক্রম করছে বৈশ্বিক মহামারী করোনা মোকাবেলায় তখন এই ধরণের অমানুষসুলভ আচরণ করা ব্যক্তিদের আমরা কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে জোর দাবি জানাচ্ছি। আমরা মনে করি এরা দেশের ক্রান্তিকালে নিজেদের লোভলালসা কিংবা অহেতুক নিরাপত্তার উছিলায় আমানবিক আচরণ, ত্রান চুরির মত নির্লজ্জতা দেখাতে গিয়ে মনুষ্যত্ব হারিয়েছে। এই সময়- এই করোনা যুদ্ধের কালে যারা মানুষকে বাঁচাতে জীবন হাতে নিয়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে তাদেরকে ছোট করা তাদের সম্মানহানি করা লোকগুলোকে বিচারের আওতায় না আনলে আমাদের গৌরব যুদ্ধে কলঙ্ক থেকে যাবে।