চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দ্রুততম মানবীর জন্য দ্রুততম সময়ে চাকুরির ব্যবস্থা করা হোক

ঘরোয়া অ্যাথলেটিকসে ‘রানী’ খেতাব পাওয়া স্প্রিন্টার নাজমুন নাহার বিউটি। ২০০৫ সালে ১০০, ২০০ ও ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জয় করেন তিনি। জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন। পরবর্তী সময়ে ৪০০ মিটার বাদ দিয়ে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টেই দৌড়াতে দেখা গেছে তাকে। জাতীয় আসরে ২০০৫ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত টানা স্বর্ণপদক ধরে রাখেন। ২০০৯ ও ২০১০ সালের সামার অ্যাথলেটিকসে চুমকির কাছে হারই ছিল ব্যতিক্রম। এছাড়া ২০০৫ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সামার অ্যাথলেটিকসের ৯ আসরে সাতটি স্বর্ণপদক জয় করেন বিউটি। প্রথম শ্রেণীতে পড়ার সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারিয়েছেন। বেড়ে উঠেছেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সরকারি শিশু পরিবারে। শৈশব থেকে নিয়মিতভাবে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়। জুনিয়র অ্যাথলেটিকস, সিনিয়র প্রতিযোগিতার গণ্ডি ছাপিয়ে বিউটি একসময় উঠে এলেন জাতীয় দলেও। ট্র্যাকে ঝড় তোলার সময়েই ২০০৫ সালে পাকিস্তানে সাফ গেমস চলার সময় হারিয়েছেন মাকে। একমাত্র নিকটজনকে হারিয়েও বিউটির জীবন থেমে যায়নি। তার জীবন চলেছে জীবনের নিয়মেই। এখন তার একমাত্র আশ্রয় কোচ লিমন। অ্যাথলেটিকস-এর ট্র্যাক দাপানোর পাশাপাশি নোয়াখালীর মাইজদি বালিকা বিদ্যানিকেতন থেকে এসএসসি, নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন বিউটি। ডিগ্রি সম্পন্ন করেন সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে। নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করেন। মাস্টার্স শেষ করে বিপি-এড ডিগ্রি নেন চট্টগ্রাম শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে। উত্তরা ইউনিভার্সিটি থেকে করেছেন এমপি-এড। দুই দশকের ক্যারিয়ার শেষ করেছেন কিছুদিন আগে। কিন্তু জীবনে আরো বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিলো বিউটির জন্য। দৈনিক বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, চাকরির সন্ধানে নেমে ধাক্কা খেয়েছেন ট্র্যাকের রানী। ক্রীড়াঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়ার ভাবনা থেকে বিপি-এড এবং এমপি-এড করেছিলেন বিউটি। পরীক্ষা দিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অ্যাথলেটিকস কোচের পদে। কিন্তু চাকরির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া দপ্তরের সহকারী পরিচালকের শূন্য পদেও পরীক্ষা দিয়েছেন। সেখানেও কাজ পাবেন কি-না নিশ্চিত নন। আমাদের দেশে বাস্তবতা হচ্ছে দেশের সেরা ক্রীড়াবিদের জন্য ক্যারিয়ার শেষে উপার্জনের নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু একজন যদি উপার্জনের নিশ্চয়তা না পান তাহলে দেশের জন্য জীবনকে উজাড় করে দিবেন কীভাবে? যদি সে নিশ্চয়তা না থাকে তাহলে প্রতিভা থাকলেও তার পূর্ণ বিকাশ হবে না। ক্রীড়াঙ্গনের মতো জায়গায় যাতে আরো আরো উজ্জ্বল প্রতিভা যোগ হয় সে লক্ষ্যে সরকারের নজর দেওয়া জরুরি। ভবিষ্যতের চিন্তা করে সাবেক দ্রুততম মানবীর জন্য দ্রুততম সময়ে চাকুরির ব্যবস্থা করা হোক।