চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দ্বিতীয় দিনে ভ্যাকসিন নিলেন মন্ত্রী-আমলাসহ ৫৪১ জন

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে মন্ত্রী, আমলা, চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৫ শতাধিক ব্যক্তি ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ্ ইমার্জেন্সী অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল কিবরিয়ার সই করা ‘ডেইলি ভ্যাকসিন আপডেট’ শীর্ষক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়: প্রথম দিনে টিকাদান কর্মসূচির সফল উদ্বোধনের পর দ্বিতীয় দিনেও সফলভাবে টিকাদানের সমাপ্তি হয়েছে। রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে দ্বিতীয় দিনে মোট ৫৪১ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

তার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২০ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে পুরুষ ১০০ ও নারী ২০ জন।

ঢামেকে ভিআইপি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। এছাড়াও ৫৪ জন চিকিৎসক, সাত জন নার্স এবং অন্যান্য ৫৮ জন ভ্যাকসিন নেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে পুরুষ ১৬৮ ও নারী ৩০ জন।

বিএসএমএমইউ’তে ভিআইপি হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, বিএসএমএমইউ উপাচার্য কনক কান্তি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান ও তথ্য সচিব খাজা মিয়া ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

এছাড়াও ১৪২ জন চিকিৎসক, চার জন নার্স ও অন্যান্য ৪৮ জন ভ্যাকসিন নেন।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১০০ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে পুরুষ ৫৯ ও নারী ৪১ জন। সেখানে চিকিৎসক ৫০ জন, ১৩ জন নার্স ও অন্যান্য ৩৭ জন ভ্যাকসিন নেন।

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৫৮ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে পুরুষ ৪৯ ও নারী ৯ জন। সেখানে চিকিৎসক ৩৮ জন, তিন জন নার্স ও অন্যান্য ১৭ জন ভ্যাকসিন নেন।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৫ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।যার মধ্যে পুরুষ ৫৫ ও নারী ১০ জন। সেখানে ১২ জন চিকিৎসক, পাঁচ জন নার্স ও অন্যান্য ৪৮ জন ভ্যাকসিন নেন।

করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে অপপ্রচারে কান দেবেন না: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী
মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে প্রথম করোনার টিকা নিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টিকা নেন তিনি।

টিকা নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় পলক বলেন: করোনার টিকা নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারে কান দেবেন না। অপপ্রচার রুখতেই আমি বুধবার রাতে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। অনলাইনে নিবন্ধন করে আজ টিকা দিলাম। ১০ মিনিট হয়ে গেল, এখনও কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

‘গতকাল আমাদের যারা টিকা নিয়েছে, তাদের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একধরনের গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

পলক বলেন: টিকা সম্পর্কে প্রথমে যে ধরনের মিথ্যা, গুজব এবং ষড়যন্ত্র চলছিল, সেগুলো মিডিয়ার কল্যাণে আমরা অনেকটাই প্রতিরোধ করতে পেরেছি। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পেরেছি।

মানুষের ভরসা বাড়াতেই সবার সামনে টিকা নিয়েছি: স্বাস্থ্য সচিব
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেন্দ্রে এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টিকা নেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান।

টিকা নেওয়া শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন: সরকারের প্রতি মানুষের ভরসা, আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ যেন আরও বাড়ে এজন্যই টিকা নেওয়া। টিকার ওপর মানুষের ভরসা বাড়াতেই সবার সামনে টিকা নিয়েছি।

তিনি বলেন: টিকা নেওয়ার পর কোনোরকম অস্বাভাবিকতা বোধ করছি না। টিকা নিয়ে আমার মনে হচ্ছে, আগে যা ছিলাম এখনও তাই আছি।

টিকা কেন্দ্রে ঈদ উৎসব বিরাজ করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকা কার্যক্রম উদ্বোধনের পর আজ রাজধানীর ৫টি হাসপাতালে আনন্দঘন পরিবেশে টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন: প্রতিটি টিকা কেন্দ্রে ঈদ আনন্দ বিরাজ করছে। আপনারা আসুন, টিকা নিন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন: টিকা নিয়ে আমরা দেশবাসী সবাই আনন্দিত। আজ টিকা কার্যক্রম অনুষ্ঠানে সকলের মধ্যে ঈদের মতো আনন্দ উৎসব বিরাজ করছে। ঈদ আনন্দে টিকা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজকে প্রতিটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এই আনন্দঘন পরিবেশে টিকা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

এর আগে গতকাল বুধবার কুর্মিটোলা হাসপাতালে দেশে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে প্রথম টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রোগটি নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ শুরু হলো দেশে। প্রথম দিন ২৬ জন ভ্যাকসিন নেন।

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী টিকাদান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন