চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দ্বিতীয়বার জোকোভিচের ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

নোভাক জোকোভিচের করোনা ভ্যাকসিন জটিলতার অবসান হতে হতেও হল না। ঘটনায় আবারও নতুন মোড়। আদালতের নির্দেশে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সুযোগ মেলার পর দ্বিতীয়বার তার ভিসা বাতিল করেছে দেশটির সরকার।

গত সোমবার জোকোর করা আপিলের প্রেক্ষিতে অজি আদালতের রায় এসেছিল, অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পেতে কোনো বাধা নেই সার্বিয়ান তারকার। রায়ের পর তিনি টেনিস কোর্টে ফিরে অনুশীলনও করেছেন। বৃহস্পতিবার বিশ্বের বর্তমান এক নম্বরকে রেখেই আসরের ড্র সেরে নেয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন কর্তৃপক্ষ।

ড্রয়ের কয়েকঘণ্টা পেরোতেই উল্টে গেল পাশার দান। অস্ট্রেলিয়া সরকারের আইনজীবীরা আগেই জানিয়েছিলেন, দেশটির ইমিগ্রেশন মন্ত্রী অ্যালেক্স হকার চাইলে ‘নিজস্ব ক্ষমতাবলে’ ফের বাতিল করতে পারেন জোকোভিচের ভিসা। শুক্রবার সেটিই করে বসেছে অজি প্রশাসন।

৩৪ বছর বয়সী জোকোভিচের অবশ্য এখনও সুযোগ থাকছে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার। সেজন্য আরেকটি আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু করতে হবে সার্বিয়ান কিংবদন্তিকে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার শুরু গত ৬ জানুয়ারি। অস্ট্রেলিয়া সরকার জোকোভিচের ভিসা বাতিল করেছিল। করোনা ভ্যাকসিনের তথ্য প্রকাশ না করার দায়ে মেলবোর্নের টুলামারিন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে আট ঘণ্টা আটকেও রাখা হয়। পরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রুমবন্দি রাখা হয় জোকারকে।

অজি প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন তখন জানান, ‘জোকোভিচ কোনো বিশেষ কেউ নন। প্রত্যেকের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য।’

অস্ট্রেলিয়া সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানী বেলগ্রেডসহ সার্বিয়াজুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় জোকোকে রাখা হোটেলের সামনেও। সার্বিয়ান সরকার দাবি করে, অস্ট্রেলিয়া জোকোভিচের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করছে।

পরে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে করা আপিলে জোকোভিচের আইনজীবী জানান, করোনা আক্রান্ত হওয়ায় জোকোর পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন নেয়া সম্ভব ছিল না। আদালত টেনিস তারকার পক্ষে রায় দেন। বলে দেন দেশটিতে থাকতে কোনো বাধা নেই। এরপর খুলতে থাকে মাঠে নামার দরজাও।

অনুশীলনে ফিরে জোকোভিচ যখন বললেন, এখন শুধু খেলায় মনোযোগের সময়, সেটির চব্বিশঘণ্টা পেরিয়ে অজি ইমিগ্রেশন মন্ত্রী অ্যালেক্স হকারের ‘নিজস্ব ক্ষমতাবল’ প্রয়োগে ফের ভিসা বাতিল হল সার্বিয়ান তারকার।

বিজ্ঞাপন