চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দোলা-নুসরাত হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর ডেমরা এলাকার কোনাপাড়ার শিশু ফারিয়া আক্তার দোলা ও নুসরাত জাহানকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যার মামলায় দুই আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার মামলার দুই আসামি গোলাম মোস্তফা ও আজিজুল বাওয়ানীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জারিমানা করা হয়েছে।

রায়ের আগে সকালে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি দুপুরে বাড়ির সামনে খেলার মধ্যেই নিখোঁজ হয় তারা। এরপর রাতে স্থানীয় আবুলের বাড়ির নিচতর ভাড়াটিয়া মোস্তফার বাসার খাটের নিচ থেকে মেয়ে দুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যার শিকার দুই শিশু ফারিয়া আক্তার দোলা (৭) ও নুসরাত জাহান (৫) ডেমরার কোনাপাড়ায় একটি নার্সারি স্কুলে পড়ত। লিপস্টিক দেওয়ার কথা বলে এই দুই শিশুকে ফ্ল্যাটে নিয়ে যান মোস্তফা ও আজিজুল।

বিজ্ঞাপন

এরপর নুসরাত ও ফারিয়াকে আসামিরা সাজিয়ে দেন। পরে মোস্তফা ও আজিজুল ইয়াবা সেবন করে দুই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে দুই শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন দুই আসামি।

এ ঘটনায় নুসরাতের বাবা পলাশ হাওলাদার বাদী হয়ে ডেমরা থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যার একদিন পরই পুলিশ আসামী মোস্তফা ও আজিজুলকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্ত শেষে ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক শাহ আলম দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। একই বছর ২৩ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।  মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

প্রথমে পুলিশের ধারণা ছিল, মুক্তিপণের জন্য হয়ত শিশু দুটিকে হত্যা করেছে আসামিরা। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, বাড়ির বাইরে খেলতে থাকা নুসরাত আর দোলাকে ‘লিপস্টিক কিনে দেওয়ার প্রলোভন’ দেখিয়ে তারা বাসায় নিয়ে গিয়েছিল ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে।

ময়নাতদন্তে জানা যায়, দোলাকে ধর্ষণ ও নুসরাতকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়। পরে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

৯ জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মোস্তফা ও আজিজুল। তাতে বলা হয়, তারা দুজন ইয়াবার নেশা করে জোরে গান বাজিয়ে মেয়ে দুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। দোলাকে ধর্ষণের পর নুসরাতকেও ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়। তখন গলায় গামছা পেঁচিয়ে মেয়ে দুটিকে হত্যা করে খাটের নিচে লাশ রেখে তারা বেরিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের ১৬ দিনের মাথায় মোস্তফা ও আজিজুলকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সেখানে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৯(৪)(খ) ধারায় একজনকে ধর্ষণ, একজনকে ধর্ষণের চেষ্টা, দুজনকে হত্যা ও আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়।

বিজ্ঞাপন