চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দোকানপাট খুলতে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা

করোনাভাইরাসে সংক্রমণ রোধে বন্ধ থাকা শপিংমল ও দোকানপাট আগামী ৩০ মে খুলবে কি না- তা নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর।

মঙ্গলবার চ্যানেল আই অনলাইনকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতি ২১ মে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল ৩০ মে থেকে দোকানপাট খুলবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, সরকার রমজান ঈদের ছুটিসহ আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এরপর সরকার যদি মার্কেট খোলার অনুমতি দেয় তাহলে আমরা খুলবো। আর লকডাউন বাড়ালে এবং বন্ধ রাখতে বললে বন্ধ রাখবো। খোলার বিষয়ে আমাদের নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নাই। তবে আমরা এ ব্যাপারে সরকারের মনোভাব জানতে চাইব।

করোনাভাইরাস এখন সব জাগায় ছড়িয়ে পড়ছে, এমন পরিস্থিতিতে আগে মানুষ বাঁচাতে হবে মন্তব্য করে হেলাল উদ্দিন বলেন, একটা সময় দরকার ছিল তখন খোলা হয়েছে। সরকারের ‍অনুমতি নিয়ে আমরা যে মার্কেট খুলেছি সেটা কিন্তু ঈদ মার্কেটের জন্য না। একেবারেই নিতান্ত প্রয়োজনে খুলেছি। যারা ক্রেতা সাধারণ এসেছে তারাও নিতান্ত প্রয়োজনে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ওই কয়েকদিন বেচাকেনা করে কিছু ক্যাশ টাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অর্জন করতে পেরেছেন। যে টাকা ব্যবসায়ীদের কাছে এসেছে, তা দিয়ে আরো প্রায় দুই মাস চলতে পারবেন।

বর্তমান সময়টাকে যুদ্ধকাল হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, যুদ্ধকালে একটা জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত আসতে হয়। সে সিদ্ধান্ত মানতে হয়। যেভাবে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, সরকার যদি মনে করে আরও ১৫ দিন সিরিয়াস লকডাউনে যাবে বা কারফিউ হবে। তা হতেও তো পারে। আগে তো মানুষ বাঁচাতে হবে।

“তবে আমরা ২৭ বা ২৮ মে’র দিকে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইবো। তারপর দোকান খোলা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”

এর আগে ২১ মে ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগর দোকান মালিক সমিতির গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহানগরের সব বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল ঈদের দিন থেকে ২৯ মে শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে আগামী ৩০ মে শনিবার থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিধি-নিষেধ মেনে যথানিয়মে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেলাল উদ্দিন বলেন, তিনি কোন ক্ষমতা বলে দোকান খুলবেন আমার জানা নেই। তাকে কি সরকার খোলার বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে? বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সরকারের নির্দেশে বন্ধ করবে ও খুলবে। কিন্তু তিনি কার নির্দেশে ৩০ মে দোকান খুলতে চান সে বিষয়ে আমরা জানি না।

গত ৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দোকান ও শপিংমল ১০ মে থেকে খোলার কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে বিকাল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে বলা হয়। তবে সরকারের অনুমতি পেয়েও বেশির ভাগ বড় মার্কেট ও শপিং মল খুলেনি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সীমিত আকারে খোলা হয় দোকানপাট।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় দেশে গত ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৭ দিনের ছুটি চলছে। আগামী ৩০ মে শেষ হচ্ছে এ সাধারণ ছুটি। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া প্রায় সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

শেয়ার করুন: