চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেড় বছর পর বন্যার পানির মধ্যে নৌকা নিয়ে বিদ্যালয়ে হাবিবা

বিজ্ঞাপন

“দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। অপেক্ষায় ছিলাম কবে বিদ্যালয় খুলবে। আজ সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ। আজ বিদ্যালয় খুলেছে। বন্যার পানি চারদিকে থৈ থৈ করছে। তারপরও নৌকা বেয়ে ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যালয়ে এসেছি।”

বিদ্যালয়ে পৌঁছানো মাত্রই শিক্ষকরা আমাকে বরণ করে নেন। এভাবেই কথাগুলো বলছিল টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈদামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার।

pap-punno

হাবিবা আক্তার বলেন: বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রিয় শিক্ষক ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলো। বাবা-মা উৎসাহিত হয়ে আমাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। আমি নিজেই দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে দুইজন বান্ধবীসহ নৌকা বেয়ে বিদ্যালয়ে এসেছি। বিদ্যালয়ে এসে বেশ আনন্দ পেয়েছি। আমার ক্লাস রোল-৩। এজন্য শিক্ষকরাও আমাকে অনেক আদর-স্নেহ করেন।

বিদ্যালয়ে আসা পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সেজুতি সরকার বলেন: বিদ্যালয়ে এসে আমি খুবই আনন্দিত। দীর্ঘদিন পর শিক্ষক ও বন্ধু-বান্ধীদের সঙ্গে দেখা হলো। আমিও নৌকা নিয়ে বিদ্যালয়ে এসেছি। বন্যার পানি থাকায় সকল সড়ক ডুবে গেছে। এজন্য নৌকা ছাড়া আর বিকল্প উপায় নেই। বিদ্যালয়ে আসা মাত্রই শিক্ষকরা আমাদের বরণ করে নেন।

Bkash May Banner

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানা খান বলেন: প্রায় দেড় বছর পর আজ বিদ্যালয় খুলেছে। আমরা এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। শিক্ষার্থীরা খুব আগ্রহ নিয়ে বিদ্যালয়ে এসেছে। আমরা তাদের বরণ করে নিয়েছি। বিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে ও তাদের বরণ করতে আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল। বিদ্যালয়ে আসার পর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের নিয়ে করোনাভাইরাস ও ডেঙ্গু বিষয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে খুবই আনন্দ পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন: প্রথম দিন আমরা পঞ্চম ও তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছি। প্রথমদিনে পঞ্চম শ্রেণীতে ৪১ জনের মধ্যে ২৮ জন ও তৃতীয় শ্রেণীতে ৪১ জনের মধ্যে ৩২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন: বিদ্যালয়ে সকল প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। সকালে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর সঠিক সময়ে ক্লাস শুরু হয়। আমরা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সকল ধরণের প্রদক্ষেপ নিয়েছি। বিদ্যালয়ের ভেতরে বন্যার পানি নেই। তবে বিদ্যালয়ের চারদিকেই পানি রয়েছে। এজন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নৌকা করে বিদ্যালয়ে এসেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদানন্দ পাল বলেন: উপজেলায় ৭৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েই একযুগে পাঠদান শুরু হয়েছে। তবে একটি বিদ্যালয়ে পানি থাকার কারণে পাশের বাড়িতে পাঠদান করানো হচ্ছে। এছাড়া আর কোনও সমস্যা নেই।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ওই বছর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

Bellow Post-Green View
Bkash May offer