চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘দেশ থেকে আমার প্রাপ্তি অনেক’

একাত্তরে গান নিয়ে শরণার্থীদের ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে যারা অনুপ্রাণিত করেছিলেন, তাঁদেরই একজন শাহীন সামাদ। ১৯৫২ সালে জন্ম নেয়া শাহীন সামাদ মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৮ বছরের এক কিশোরী। বিজয় দিসব উপলক্ষে চ্যানেল আই অনলাইনকে সম্প্রতি বললেন যুদ্ধের দিনগুলোর কথা।

মাত্র ১৩ বছর বয়সেই ছায়ানটের সঙ্গে যুক্ত হন শাহীন সামাদ। তাঁর কিছুদিন পরেই মারা যান তাঁর বাবা। ছায়ানটে যোগদানের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন আন্দোলনের সাথে আস্তে আস্তে সম্পৃক্ত হয়ে যান। ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে সময়ও সরাসরি সংশ্লিষ্ট থেকেছেন ছায়ানটের বিভিন্ন কার্যক্রমে। তখনই সংস্পর্শে আসেন আলতাফ মাহমুদসহ গণসংগীতের বিভিন্ন শিল্পীদের সঙ্গে। বয়সে ছোট হলেও মোটামোটি বুঝতে পারতেন সামনে কিছু একটা হবে। শহীদ মিনার, রমনা বটমূল, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশনসহ ঢাকার রাজপথ জুড়ে তখন ঘুরে বেড়িয়েছেন, গান গেয়েছেন সংস্কৃতি দলগুলোর সাথে। পুলিশের তাড়াও খেয়েছেন সেই সময়ে।

বিজ্ঞাপন

এক আত্মা, এক মন, এক প্রাণ নিয়ে এগিয়ে চলেছেন সবার সাথে একসঙ্গে। মনকেও আস্তে আস্তে প্রস্তুত করতে থাকেন বিপ্লবের জন্য। ৭ই মার্চের ভাষণের পর আরও উদ্বুদ্ধ হন। তবে, তাঁর চেতনা কিংবা সাহস সবকিছুই জুগিয়েছে তাঁর গান।

মা আগে থেকেই ভয় পেতেন মেয়ে শাহীনকে নিয়ে। জানতেন, তাঁকে আটকে রাখা যাবে না। স্বাধীনতার ঘোষণা আসার পর সত্যিই সব পিছুটান ফেলে দেশের জন্য ছুটে চলে গেছেন বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে। গান গেয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেও। কলকাতা যাওয়ার পথে পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়তে পড়তেও বেঁচেছেন। সেসব কথা বলতে এখনও শিহরিত হন শাহীন সামাদ।

শুধু শরণার্থী শিবির নয়, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে গিয়ে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদেরও ক্রমাগত অনুপ্রাণিত করেছেন গানের মাধ্যমেই। বললেন, সে সময়ের জাগরণী গানগুলোই যেন দেশটাকে স্বাধীন করেছে আরও তাড়াতাড়ি। এই উজ্জীবন শক্তি না থাকলে হয়ত নয় মাসেরও বেশি সময় লেগে যেত আমাদের স্বাধীনতা পেতে।

একবারের জন্যও মৃত্যুকে সেসময় ভয় পাননি কিশোরী শাহীন সামাদ। মনে শুধু ছিল বিজয়ের চেতনা। সেই চেতনা গানের মধ্য দিয়েই সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সে সময়। আফসোস করলেন যে সেই একাত্মবোধের এখন অনেক বেশি অভাব।

পাওয়া না পাওয়ার হিসাব খুব বেশি করেন না তিনি। স্বাধীন দেশে অনেক কিছুই পেয়েছেন বললেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের যে সম্মান ও ভালোবাসা এতদিন ধরে পেয়ে আসছেন, এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কিংবা পুরস্কার বলে মনে করেন শাহীন সামাদ। নেতিবাচক কোন অভিযোগও নেই কারও প্রতি। দেশের প্রতিটি পরিস্থিতিতে সেই মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতো করেই একাত্মতা বজায় রেখে কাজ করতে চান সকলের সাথে।

Bellow Post-Green View