দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২.৩ শতাংশ

বই উৎসব।
সরকারের নানামুখী কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২.৩ শতাংশতে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৭২.৩। বর্তমান সরকারের নানামুখী কর্মসূচির কারণে পূর্বের তুলনায় সাক্ষরতার হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
সকল নিরক্ষর জনগোষ্ঠী সাক্ষর করতে না পারলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে কার্যকর জীবনদক্ষতা ভিত্তিক সাক্ষরতা প্রদান করার জন্য উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা)’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার ২৫০ টি উপজেলায় ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে জীবনদক্ষতাসহ মৌলিক সাক্ষরতা প্রদান করা হবে।

তবে গণসাক্ষরতা আন্দোলনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘সরকারি হিসাব মতে ৭২.৩ শতাংশ মানুষ সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তারপরেও ২৮ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। ১৬কোটি মানুষের এই দেশে সংখ্যাটা অনেক বড়। তার মানে বিশাল এক জনগোষ্ঠী এখনো শিক্ষার আলো পায়নি। তাদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছাতে হবে। এটা অনেক বড় এক চ্যালেঞ্জ।’
সরকারি হিসাবের সাথে ভিন্নমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সরকারী হিসেবে যে ব্যক্তি নাম লিখতে পারে তাকেই সাক্ষর হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিয়মে শুধু নাম নয়, যে একটা চিঠি লিখতে, পড়তে এবং বুঝতে পারে তাকে সাক্ষর হিসেবে ধরা হয়। যে ব্যক্তিজীবনে শিক্ষাটা প্রয়োগ করতে পারে, হিসাব নিকাশ করতে পারে তাতেই সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন ধরা হয়। সেই সূত্রে দেশে শিক্ষার হার ৫২ শতাংশ। যা আগে ছিল আরও কম।’ দিনদিন সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পাওয়াটাকে তিনি উন্নতির লক্ষণ হিসেবে মনে করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘সাক্ষরতা অর্জন করি, ডিজিটাল বিশ্ব গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হবে।
সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট অবমুক্তকরণ, ক্রোড়পত্র ও স্মরণিকা প্রকাশ, পোস্টার তৈরি, শোভাযাত্রা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে সড়কদ্বীপ সজ্জিত করণ, গোলটেবিল বৈঠক ও টেলিভিশন টকশো আয়োজন করা হবে।



