চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেশে প্লাস্টিক দূষণকারীদের তালিকার শীর্ষে যারা

এনভায়রনমেন্ট অ্যাণ্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন – এসডোর ব্র্যান্ড অডিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী কোকা-কোলা কোম্পানি, পেপসিকো, প্রাণ আরএফএল লিমিটেড, নেসলে এবং ইউনিলিভার টানা চার বছর ধরে বাংলাদেশের প্লাস্টিক দূষণকারীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

“দ্যা বিটার ট্রূথ অব প্লাস্টিক পলিউশন” শীর্ষক প্রতিবেদনটি সম্প্রতি একটি ভার্চ্যুয়াল সেশনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এই বছর, এসডো ঢাকা এবং ময়মনসিংহ শহরে টানা তিন দিন ধরে এই ব্র্যান্ড অডিটটি পরিচালনা করেছে যেখানে প্রায় ১৯,৯৬৩ পিস প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া গিয়েছে যার মোট ওজন প্রায় ১৩২ কেজি এবং এর মধ্যে ১১ টি আন্তর্জাতিক এবং ৩৩ টি লোকাল প্যারেন্ট কোম্পানিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোকাকোলা, পেপসিকো, নেসলে, ইউনিলিভার, পারফেটি ভ্যান মেল্লে, বোম্বে সুইটস এবং কোং লিমিটেড, প্রাণ আরএফএল লিমিটেড, স্কয়ার ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, আকিজ গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ইত্যাদি।

ভার্চ্যুয়াল সেশনটি সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব এবং এসডো চেয়ারপারসন সৈয়দ মারগুব মুর্শেদ।

তিনি বলেন, “একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। কর্পোরেশনগুলিকে তাদের দ্বারা সৃষ্ট প্লাস্টিক দূষণের দায় নিতেই হবে। এই কোম্পানিগুলোর অপুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যে ও স্যাশেতে আমাদের বাজার সয়লাব যা আমাদের আরো হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

বিজ্ঞাপন

এসডোর সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন,  “টানা চতুর্থ বছর ধরে, প্লাস্টিক দূষণে এই বড় কোম্পানিগুলোই অবদান রাখছে। এই কোম্পানিগুলো দাবি করে যে তারা একটি পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সত্য হল যে তারা এখনও কোনো যথার্থ সমাধানে আসতে পারছে না। কোকা-কোলা, পেপসিকো, ইউনিলিভার, প্রাণ প্রভৃতি বহুজাতিক কর্পোরেশনকে প্লাস্টিকের দূষণ রোধে একবার ব্যবহারের প্লাস্টিকের প্যাকেজিং ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।”

ব্র্যান্ড অডিটের ফলাফল থেকে এটি স্পষ্ট যে, এই জনপ্রিয় কর্পোরেশনগুলোই আমাদের দেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দ্বারা সৃষ্ট দূষণের জন্য দায়ী। এই কর্পোরেশনগুলিকে এই বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিৎ এবং একটি সুষ্ঠ সমাধানের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এসডো’র নির্বাহী পরিচালক, সিদ্দিকা সুলতানা বলেন যে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং থেকে ডাইঅক্সিনের মতো রাসায়নিক পদার্থ পানি এবং খাদ্যে চলে যায় যা এন্ডোক্রাইন সমস্যা, ক্যান্সার, জন্মগত ত্রুটি, ইমিউন সিস্টেমের সমস্যা এবং শিশুদের বিকাশের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সরকারকে অবিলম্বে এই বিষয়ে জোর দিতে হবে।

এসডো’র মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “প্লাস্টিক দূষণের সমাধান হল জিরো ওয়েস্ট পদ্ধতি যার মাধ্যমে প্লাস্টিক মুক্ত পৃথিবী অর্জন করা কেবল সহজই নয়, সম্ভব।”

ব্র্যান্ড অডিট উদ্যোগটি ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক (বিএফএফপি) গ্লোবাল মুভমেন্ট দ্বারা পরিচালিত। ব্র্যান্ড অডিট মূলত জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এবং নির্মাতাদের একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষতিকর পরিণতি থেকে পরিবেশ রক্ষা করার জন্য পালন করা হয়।

বিজ্ঞাপন