চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেশে করোনায় প্রথম মৃত্যুর এক বছর

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো আজ ১৮ মার্চ। প্রথম করোনা সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছিলো গত বছরের ৮ মার্চ আর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিলো ঠিক তার ১০ দিন পর। সেই পথ ধরে আজকে পর্যন্ত দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ৬২৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ৫২১ জন পুরুষ মারা গেছেন যা মোট মৃত্যুর ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং দুই হাজার ১০৩ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছেন যা মোট মৃত্যুর ২৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

প্রথম যিনি করোনায় মারা গিয়েছিলেন, তিনি ৭০ বছর বয়সী একজন পুরুষ ছিলেন। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি তার হার্টে স্টেন্ট পরানো ছিল। ধারণা করা হয় বিদেশ ফেরত কোনো আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি সংক্রমিত হয়েছিলেন। গত বছর ১৮ মার্চ মাত্র ১০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিলো আর তাতে পজিটিভ হয়েছিলেন ৪ জন। সেই অবস্থা থেকে বর্তমানে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরে করোনা চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপনায় যথাযথ উপকরণের অভাব, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ, হাসপাতালে সেবার অভাব, জরুরি সেবা নিশ্চিতে ব্যাপক দুর্বলতার পাশাপাশি একের পর এক দুর্নীতির খবরও গত এক বছরে মূলত সরকারি স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশাকেই তুলে ধরেছে। তবে এই পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে বলা যেতে পারে। তাছাড়া আক্রান্ত ও মৃত্যুর তুলনায় সুস্থতার হারও অনেক বেশি। ১৮ মার্চ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৯ জন। আর মোট পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৫২৩ জন সুস্থ হয়েছেন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৬১ শতাংশ। এছাড়া দেশে করোনার ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধকোটি। এগুলো অবশ্যই ইতিবাচক।

দীর্ঘ একবছর হলো দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কওমি মাদ্রাসা ছাড়া) বন্ধ রয়েছে। যেকোনো সময় তা খুলে দেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে।

করোনা গত ২/৩ মাস হলো বেশ নিয়ন্ত্রণে আসলেও গত সপ্তাহ থেকে শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের নতুন ধরণের করোনা দেশে প্রবেশ করেছে, তাছাড়া জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে যথেষ্ট উদাসীনতা দেখাচ্ছে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ অবনতি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। আমাদের আশাবাদ, বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন এবং সর্বোপরি সাধারণ জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।