চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেশে ‘আইএমবিসিএএমএস’কে তৃতীয় ট্রায়ালের অনুমোদন দিল বিএমআরসি

দেশে করোনা ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল পরিচালনায় চীনের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল বায়োলজি চাইনিজ একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সকে (আইএমবিসিএএমএস) অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (বিএমআরসি)।

আজ বুধবার বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিনের সই করা এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) এনআরইসি কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত মেনে চীনের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল বায়োলজি চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সকে (আইএমবিসিএএমএস) তাদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ‘ইনঅ্যাকটিভেটেড ভ্যাকসিন’ এর তৃতীয় ট্রায়াল দেশে পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এখন থেকে বিএমআরসি’র এনআরইসি কমিটি আরও বিস্তারিত জানাবে।

চিঠিতে চীনের ইনস্টিটিউটকে অবিলম্বে কাজ শুরুর কথা জানানো হয়েছে। এছাড়াও বলা হয়েছে বিএমআরসি’র একটি মনিটরিং কমিটি কাজ পর্যবেক্ষণ করবে।

এটি বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস এর পরিচালিত প্রথম কোনো ওষুধ বা টিকার তৃতীয় ট্রায়াল। এ ধরণের ট্রায়াল পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ করোনা টিকার ট্রায়াল পরিচালনার যুগে প্রবেশ করল। একই সঙ্গে করোনাভাইরাসের মহামারী থেকে মুক্তি পেতে এই ট্রায়াল পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সুবিধায় এই ভ্যাকসিন পাবো বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আইএমবিসিএএমএস প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৮ সালে সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ার সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পরেই ১৯৬০ সালে ওরাল পলিওমাইলেস্টি ভ্যাকসিন (ওপিভি) এবং ১৯৯২ সালে হেপাটাইটিস-এ ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত দুই বিলিয়ন ওপিভি এবং ৫২ বিলিয়ন ডোজ হেপাটাইটিস-এ টিকা উৎপাদন ও বাজারজাত করেছে।

এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মনোনীত বিশ্বের বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালে করোনা মহামারি শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে একটি ‘ইনঅ্যাকটিভেটেড ভ্যাকসিন’ উদ্ভাবনে কাজ শুরু করে।

ইতোমধ্যে সার্সকোভ-২ নামের একটি টিকা উদ্ভাবন করে, যা আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুসারে প্রাণীদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এবং মানবদেহে পরীক্ষামূলক ফেজ-১ ও ফেজ-২ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

এ প্রতিষ্ঠানের টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনায় দেশের একটি ওষুধ কোম্পানির মাধ্যমে গত ২৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে আবেদন করে। যেটি পরিচালনায় ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র- আইসিডিডিআর,বির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই টিকার ট্রায়াল পরিচালিত হচ্ছে এবং এর কোনো তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। চীনের এই প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ওয়ান ফার্মা লিমিটেড।

এদিকে বাংলাদেশে একমাত্র করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত বঙ্গভ্যাক্স ভ্যাকসিন বানরের শরীরে ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (বিএমআরসি)।

এরফলে প্রতিষ্ঠানটি বানরের শরীরে পরিচালিত ট্রায়ালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে তাদের পরের ধাপ অর্থ্যাৎ মানুষের শরীরে ট্রায়াল পরিচালনার অনুমতি পেতে পারে।

বিজ্ঞাপন