চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেশের রিজার্ভ এখন ৪২ বিলিয়ন ডলার

করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেও বেড়েই চলছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ফলে একের পর এক রেকর্ড গড়ছে রিজার্ভের পরিমাণ।

মঙ্গলবার দেশের রিজার্ভ দাঁড়াল ৪ হাজার ২০০ কোটি (৪২ বিলিয়ন) ডলারে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১১ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মূলত রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে এই উচ্চতায় পৌঁছেছে রিজার্ভ। এ ছাড়া বিদেশি ঋণ সহায়তা, আমদানি ব্যয় কমে যাওয়া এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারাও রিজার্ভ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রেমিট্যান্সের কারণেই রিজার্ভ বাড়ছে। চলমান করোনা সংকটময় সময়ে রিজার্ভ বাড়ার খবর অর্থনীতির জন্য সুসংবাদ।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবরে রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে অর্থাৎ গত ৮ অক্টোবর রিজার্ভ ৪ হাজার ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। এ বছর মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে ১০ বার রেকর্ড হয় রিজার্ভে।

বৈধপথে অর্থাৎ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য সরকার গত অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে নগদ দুই শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরেও তা অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি ডিসেম্বর মাসেও বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে ১ হাজার ৯০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা তার আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪১ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি।

রপ্তানিখাতেও আয় বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১ হাজার ২৫৪ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যা গত বছরের একই সময়ে চেয়ে ১ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর গত মার্চ শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৩৯ কোটি ডলার। এরপর ৭ মাস পার না হতেই প্রায় এক হাজার কোটি ডলার বেড়ে রিজার্ভে পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বেশি রিজার্ভ মূলত দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ায়। তাছাড়া অর্থ প্রত্যাবাসন সহজ হবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই আস্থাও তৈরি হয়।