চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেশের মুক্তি-সংগ্রামের নেপথ্যের বড় গেরিলা যোদ্ধার নাম বঙ্গমাতা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, মহিয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করেছে যুবলীগ।

সোমবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় এই সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মাজেদা হাসপাতাল অক্সিজেন ব্যাংক, শেখ ফজলুল হক মণি ও আরজু মণি অক্সিজেন ব্যাংক (যশোর)-কে ১২০ কেজি ওজনের ১০টি করে সিলিন্ডার এবং গাজীপুর মহানগর যুবলীগ, পাবনা জেলা যুবলীগ, কুমিল্লা মহানগর যুবলীগ, খুলনা মহানগর যুবলীগ, মাগুরা জেলা যুবলীগ, লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগ, সিলেট মহানগর যুবলীগ, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগ, পটুয়াখালী জেলা যুবলীগ, কুড়িগ্রাম জেলা যুবলীগ, চাঁদপুর জেলা যুবলীগ ও শরীয়তপুর জেলা যুবলীগের অক্সিজেন ব্যাংকে ৩০ কেজি ওজনের ৫টি করে অক্সিজেন সিলি-ার প্রদান করা হয়।

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, বঙ্গমাতা ছিলেন স্বশিক্ষায় শিক্ষিত। তিনি ছিলেন অতিথি পরায়ণ, তার হৃদয় ছিল মহানুভবতায় ভরপুর, দুঃসময়ে ছিলেন ধৈর্য্যর মূর্তপ্রতীক, কিভাবে দুঃসময়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে এগিয়ে যেতে হয় তা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি। ছয় দফা থেকে-১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এই দুর্বিসহ সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন সময়ে যখন জেলে বন্দি থাকতেন তখন দিশাহারা ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পথপ্রদর্শক ছিলেন বঙ্গমাতা। শুধু তাই নয়, তিনি শিশুদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। শিশুদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। আমার শিশু বয়সে তার সাথে মধুর স্মৃতি রয়েছে। একদিন আমার মায়ের সাথে ধানমন্ডি ৩২, বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গেলে তাদের মুরগী এবং মুরগীর বাচ্চা আমার খুব পছন্দ হয়ে যায়। সেটি বঙ্গমাতা টের পেয়েছিলেন। কিন্তু মায়ের কারণে বাসায় আনতে পারি নাই। কাঁদতে কাঁদতে সেদিন বাসায় ফিরেছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে দেখি মুরগী ও মুরগীর বাচ্চা আমার বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন। এটাই ছিল শিশুদের প্রতি বঙ্গমাতার ভালোবাসা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমি তাকে আপন দাদি বলে ডাকতাম। বঙ্গবন্ধুর প্রতিও ছিল তার অকৃত্রিম ভালোবাসা, জীবন দিয়ে তা প্রমাণ দিয়েছেন। এদেশের মুক্তির আন্দোলনে, মুক্তির সংগ্রামে সবচেয়ে বড় দেশ প্রেমিকের নাম বঙ্গমাতা। এদেশের মুক্তি-সংগ্রামের নেপথ্যের বড় গেরিলা যোদ্ধার নাম বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার যে চারিত্রিক গুণাবলীতে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সরলতা ও মহানূভবতা দেখতে পাই তা তিনি বঙ্গমাতার চারিত্রিক গুণাবলী থেকে লাভ করেছেন।
তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগকে অক্সিজেন দিয়ে পাশে থাকার জন্য আবুল খায়ের গ্রুপ ও নাভানা গ্রুপের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এই করোনার মহামারিতে নানাভাবে মানুষের পাশে রয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করেন বলেই এতটা কষ্ট, এতটা ত্যাগ স্বীকার করে মানুষের সেবা করে চলেছেন। মনে রাখবেন শুধু মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করলেই মানুষ হওয়া যায় না। কর্মের মাধ্যমে মানুষ তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছায়। আপনারা মানুষের জন্য কাজ করে যান-আপনারাও সফলকাম হবেন। তিনি যুবলীগের টেলিমেডিসিন ও স্বাস্থ্য সেবার সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ দেন।

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, এই করোনার মহামারিতে দেশের ডাক্তার সমাজের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনারা নিজ জীবন তুচ্ছজ্ঞান করে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশে মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন। আপনারাই করোনা যুদ্ধে অগ্রসেনানি।

যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন তিনি আরও বলেন, এই মহামারিতে আপনারা আমাদের নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে নিজ বিবেকের তাড়নায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এজন্য যুবলীগের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনারা অসহায় কৃষকের ধান কেটে দিয়েছেন, রেশনিং পদ্ধতিতে খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ করছেন, করোনায় মৃতদের দাফন কর্মে অংশগ্রহণ করছেন, ফ্রি টেলিমেডিসিন ও এ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে যাচ্ছেন; তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা কার্যক্রম। আপনাদের প্রতি সংগ্রামী সালাম। যুবলীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন-নিজেরা নিজেদের পিছনে না লেগে, নিজেদের ক্ষতি না করে ঐক্যবদ্ধ থেকে জামাত-বিএনপির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সজাগ থাকুন, সোচ্চার থাকুন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন-যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এড. মামুনুর রশীদ, ডা. খালেদ শওকত আলী, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাজহারুল ইসলাম, ডা. মোঃ হেলাল উদ্দিন, মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, তথ্য ও যোগাযোগ (আইটি) সম্পাদক মোঃ শামছুল আলম অনিক, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফরিদ রায়হান, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ হারিছ মিয়া শেখ সাগার, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবদুল হাই, উপ-প্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সফেদ আশফাক আকন্দ তুহিন, উপ-তথ্য ও যোগাযোগ (আইটি) সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, উপ-স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহফুজুর রহমান উজ্জল, সহ-সম্পাদক আবির মাহমুদ ইমরান, তোফাজ্জল হোসেন তোফায়েল, কার্যনির্বাহী সদস্য প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম, ডা. আওরঙ্গজেব আরু, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মফিজুর রহমান জুম্মাসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা ও বিভিন্ন ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন