চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’

বিসিবির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিসেম্বরে হবে বিপিএলের সপ্তম আসর। এবারের টুর্নামেন্ট হবে বঙ্গবন্ধুর নামে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য অর্থ খরচ করবে বিসিবি। ক্রিকেটার বের করে আনার লক্ষ্যে থাকবে প্রতিটি দলে একজন করে লেগস্পিনার খেলানোর বাধ্যবাধকতা।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে থাকছে না কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। অংশগ্রহণকারী সাতটি দলের সঙ্গেই থাকবে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের অংশ হতে পারবেন না তাদের কেউ। দলগুলোর তত্ত্বাবধানে থাকবেন একজন করে বিসিবি পরিচালক। এসব ছাড়াও আরও বেশকিছু প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বৃহস্পতিবারের বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সভায়।

বিজ্ঞাপন

তবে কেবল এই আসরই হবে এমন পদ্ধতিতে। আগামীবার থেকে আবারও ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজনে ফিরে যাবে টি-টুয়েন্টির এই মহাযজ্ঞ।

বিসিবির সহ-সভাপতি মাহবুবুল আনাম সভা শেষে সংবাদমাধ্যমকে জানান বঙ্গবন্ধু বিপিএল নিয়ে তাদের ভাবনার কথা।

বিগ ব্যাশের আদলে বিপিএল
‘কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি নেই এবার। পৃষ্ঠপোষক থাকবে। তবে তারা দায়িত্ব নিচ্ছে না। তারা টাকা দেবে। সেটি বিসিবি খরচ করবে। বিগ ব্যাশ যেভাবে হয়, সেভাবে হবে। বিগ ব্যাশে অঞ্চলভিত্তিক দল খেলে থাকে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড নিজস্বভাবে অর্থ খরচ করে। পৃষ্ঠপোষক ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।’

চার পৃষ্ঠপোষক কোম্পানির সঙ্গে সভা
‘আমাদের আজ বেশকিছু সাব-কমিটির সভা ছিল। আজকে চারটি স্পন্সর পার্টনারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা হয়েছে। তাদেরও কিছু জিজ্ঞাসা ছিল। আমাদেরও কিছু জিজ্ঞাসা ছিল। তাদের সম্পর্কে জানার ছিল। তারা কোন জায়গা থেকে এসেছে, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড কি, তাদের কি দায়িত্ব থাকবে, পরিধি কতোটা থাকবে, সেগুলো আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। পরবর্তী পর্যায়ে কমিটি বোর্ডকে জানাবে কাকে কাকে দায়িত্ব দেয়া হবে। সবাইকে নেয়া হবে ব্যাপারটি তেমন নয়। কারণ সবাই হয়তো বিসিবির শর্ত পূরণ করতে পারবে না।’

পৃষ্ঠপোষকদের লাভ কতটা?
‘আমাদের জাতীয় দলে যেরকম টিম স্পন্সরশিপ আছে তেমন। তারা যে স্পন্সরশিপ সুবিধাগুলো পায়, একই সুবিধা তারাও পাবে। দল গঠনে তাদের সরাসরি কোনো ভূমিকা থাকবে না, পরোক্ষভাবে তারা হয়তো মতামত দিতে পারবে। কোন কোন খেলোয়াড় আসলে তারা ভালো মনে করে, সেটা থাকবে।

বিজ্ঞাপন

ড্রাফটে ৪০০ বিদেশি ক্রিকেটার
‘বলা বাহুল্য যে বিপিএলের এবারের ড্রাফটের আগেই আমরা আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করছি। ইতিমধ্যে ৪০০-এর কাছাকাছি খেলোয়াড় নিবন্ধন করেছে। তবে যদি কোনো বাড়তি বিদেশি খেলোয়াড় বাইরে থেকে নিতে হয়, তাহলে টিম স্পন্সররা তাদের খরচে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।’

বিদেশি নামীদামী কোচদের আগ্রহ
‘আমরা প্রতিটি দলে আন্তর্জাতিক কোচ নিয়োগ দেব। যে যে কোচ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে চেয়েছেন তারা নাম পাঠিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে ফিজিও, ট্রেনার এবং বিদেশি খেলোয়াড় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। লোকাল কোচ সম্পৃক্ত থাকতে পারে এবং প্রতিটি দলে একজন করে টিম ডিরেক্টর থাকবেন।’

দেশি কোচরা উপেক্ষিত থাকবেন?
‘দেশি কোচরা থাকতে পারেন। তবে আমরা যেসব আন্তর্জাতিক কোচের নাম পেয়েছি সত্যিই আশাব্যঞ্জক, তারা সবাই নামীদামী কোচ। এখনই তাদের নাম বলতে চাই না। কারণ কাউকে আমরা এমনিই কোয়ালিফাই করতে চাই না। আমরা যদি কারও নাম বলি তাহলে হয়তো তারা হয়ে যাবে ফ্রি কোয়ালিফায়েড।’

দলের মাঝে সমতা
‘আমরা দলগুলোর জন্য কোচ, ফিজিও, ট্রেনার নিয়োগ আলোচনার মাধ্যমে আনতে চাই। কেননা সব দল যেন বলতে পারে সমমানের ম্যানেজমেন্ট পেয়েছি। কোনো অসমতা রাখতে চাই না। প্রতিটি দলে বিসিবি থেকে একজন করে টিম ডিরেক্টর থাকবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে তিনি সম্পৃক্ত থাকবেন।’

কারা হবেন টিম ডিরেক্টর?
‘বিসিবিতে যারা আছেন তারা প্রত্যেকে ক্রিকেট সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। আমরা চাচ্ছি দায়িত্বটা দিতে, সেটা সাবেক ক্রিকেটার হতে পারে, সংগঠক হতে পারে।.বোর্ড পরিচালকদের থেকেই নিয়োজিত হবেন।

‘লেগস্পিনার খেলাতেই হবে’
‘অনেক তারকাই আছে যারা অবসরে চলে গেছেন কিন্তু তারা অনেকেই খেলেন। পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা সিরিজে শ্রীলঙ্কা জিতেছে আনকোরা দল নিয়ে। এবারে যে বিপিএল হতে যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধু বিপিএল, আমরা কিছু বাধ্যবাধকতা দিয়ে দিব সেখানে। টুর্নামেন্টটা করার প্রধান কারণ- বাংলাদেশের খেলোয়াড় বের করে আনা। তবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা যদি পজিশনমতো ব্যাটিং করতে না পারে, বোলিং করতে না পারে, এই টুর্নামেন্টের সার্থকতা কমে যাবে। আমরা লেগস্পিনার খুঁজছি। কিছু কিছু নিয়ম বাধ্যতামূলক থাকবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি যখন আসে, তখন তাদের জয় পাওয়ার আশায় জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বেশকিছু জায়গায় পিছিয়ে পড়ে গেছে। আমাদের জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে কিছু সাজেশন আসছে, আমাদের লেগস্পিনার দরকার, প্রতিটি দলে একজন লেগস্পিনার খেলাতেই হবে এবং তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ৪ ওভার বোলিং করাতেই হবে। যারা আন্তর্জাতিক ফাস্ট বোলার আসে, তাদের মধ্যে মিনিমাম ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করে এমন বোলার আসে, যেন এমন বোলার অন্তর্ভুক্ত করে। আমাদের খেলোয়াড়দের একটা ব্যালেন্স করতে চাই, যেন উপরে উঠতে পারে। উদ্দেশ্য হচ্ছে- যেহেতু আমরা বিসিবির টাকা ক্রিকেটের উন্নয়নে খরচ করতে চাই, তাহলে এসব বাধ্যবাধকতা থাকবে।

এক সপ্তাহ পেছাতে পারে বিপিএল
বিসিবির পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছিল ৬ ডিসেম্বর শুরু হবে বিপিএল। কিন্তু বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ সোহেল জানালেন, এক সপ্তাহ পিছিয়ে শুরু হতে পারে আগামী আসর।

Bellow Post-Green View