চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঢাকাই চলচ্চিত্রে বছরের আলোচিত পাঁচ ঘটনা

নানা ঘটনায় ভরা ছিল ২০১৭ এর দেশীয় বিনোদন জগত। ঘটনার ঘনঘটায় কখনও তারকাদের বিয়ে-বিচ্ছেদ, কখনও বা দুই তারকার মনোমালিন্য উঠে এসেছে আলোচনায়। চ্যানেল আই অনলাইনের পক্ষ থেকে পাঠকদের জন্য থাকছে এ বছরের আলোচিত পাঁচ ঘটনা।

শাকিব খান-অপু বিশ্বাস: বিয়ে-সন্তান-বিচ্ছেদ: নয় বছর আগে গোপনে শাকিব খানকে বিয়ে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে সন্তান আব্রাম খান জয়ের জন্মসহ অজানা সব তথ্য নিয়ে এ বছরের এপ্রিলে হঠাৎ হাজির হন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। এরপর থেকে এ বিষয় নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। প্রথমে অস্বীকার, পরে সন্তান সহ অপুকে স্ত্রী বলে মেনে নেয়া- এসব কিছু করে শাকিব খান ছিলেন আলোচনার শীর্ষে আর শাকিব-অপুর কাহিনী ছিল টক অব দ্য টাউন। ছেলের জন্মদিনে শাকিবের না থাকা, ছেলেকে তালা দিয়ে অপুর কোলকাতা চলে যাওয়া নিয়ে শাকিবের থানায় গিয়ে সাহায্য চাওয়া- কোন কিছু নিয়েই কম আলোচনা হয়নি এ বছর। সর্বশেষ তাঁরা আলোচনায় এসেছেন বিচ্ছেদের ঘোষণায়। হঠাৎ করেই অপুর কাছে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন শাকিব খান। আর তারপরই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। দু’জনের দু’রকম বিয়ের তারিখ বলা, কাবিননামায় দেন মোহর নিয়ে দু’জনের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর হিসাব দেয়া ইত্যাদি বিষয় তাঁদেরকে এ বছর আর আলোচনা থেকে বাইরে থাকতে দেয়নি।

বিজ্ঞাপন

‘ডুব’ বিতর্ক: ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর মুক্তি পায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ডুব’। গত বছরের শেষ দিকেই খবর রটে যায়, এই চলচ্চিত্রের সাথে নন্দিত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের জীবন কাহিনীর মিল আছে। এরপর থেকেই শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এই ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে ওঠেন বছরের শুরুতেই। নুসরাত ইমরোজ তিশা, পার্নো মিত্র, ইরফান খান, রোকেয়া প্রাচী অভিনীত ‘ডুব’ যৌথ প্রযোজনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র পায়। এর পর ছবিটিকে যখন সেন্সর বোর্ডে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, তখন শাওন আপত্তি জানিয়ে চিঠি দেন সেন্সর বোর্ডে। এর পরপরই অনাপত্তিপত্র স্থগিত করা হয়।

পরবর্তীতে প্রায় ছয় মাস আটকে থাকার পর অবশেষে সেন্সরবোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছু সংশোধনীর পর ছাড়পত্র পায় ‘ডুব’।

মিশা সওদাগর- ওমর সানি: গত ৫ মে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন চিত্রনায়িকা মৌসুমি। কিন্তু তিনি শপথ নে​ননি। শুধু তাই নয়, ৩ জুলাই চিত্রনায়িকা মৌসুমী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে পদত্যাগ করেন। এর কারণ হিসেবে বলা যায়, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে স্বামী ওমর সানীর পরাজয়।

এদিকে ওমর সানী-মৌসুমীর দীর্ঘদিনের বন্ধু মিশা সওদাগর সে সময় বলেন, ‘দেখুন, উনি (মৌসুমী) কলেজ পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা (নির্বাচন) দিয়েছেন। পাসও করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হননি। তার মানে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের (শিল্পী সমিতি) শিক্ষার্থীই নন। কারণ, তিনি শপথ গ্রহণ করেননি। যিনি আমাদের শিক্ষার্থী নন, তাঁকে নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। তিনি বয়স্ক অভিনেত্রী, তাঁকে আমরা সম্মান করি’।

আর এ কথা বলেই ওমর সানীর তোপের মুখে পড়েন মিশা। ওমর সানী লাইভে এসে বিভিন্নভাবে কটূক্তি করেন মিশাকে। পরবর্তীতে অবশ্য ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ ছবির সেটে মৌসুমীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন মিশা।

মৌসুমীকে আবার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে ফিরে আসার জন্য অনুরোধও করেন। যদিও তাতে কোন লাভ হয়নি।

শাকিব খানের উপর নিষেধাজ্ঞা: চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও মিডিয়াতে চলচ্চিত্র পরিচালকদের ‘বেকার’ বলা সহ মানহানিকর নানান বক্তব্য দেওয়ায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল শাকিব খানের উপর। সমিতির ভাবমূর্তি ও সদস্যদের সম্মান রক্ষার্থে কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করা হয়।

পরিচালক সমিতি থেকে ‘বয়কট’ ঘোষণার পরেও সমিতির সদস্য শামীম আহমেদ রনী তখন শাকিব খানকে নিয়ে ‘রংবাজ’ ছবির শুটিং অব্যাহত রাখেন। এই কারণে, সমিতির পক্ষ থেকে রনীর সদস্যপদও বাতিল করা হয়।

শাকিব পরে সশরীরে জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করায় ১ মে তাঁর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।

কিন্তু, এর দুই মাস না যেতেই জুন মাসে আবারও এফডিসিতে নিষিদ্ধ করা হয় শাকিবকে। চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠদের নিয়ে মন্তব্য ও ‘যৌথ প্রতারণা’র (নীতিমালা বহির্ভূত যৌথ প্রযোজনা) ছবির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে তাঁর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এফডিসির ১৪ সংগঠনের জোট ‘চলচ্চিত্র পরিবার’।

যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগে এফডিসির মোট ১৭টি সংগঠন থেকে শাকিব খান, প্রযোজক আব্দুল আজিজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে চলচ্চিত্র অঙ্গনের নেতারা। ২৩ জুন সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন চলচ্চিত্র পরিবারের নেতারা।

পরবর্তীতে জানা যায়, কারও উপর এফডিসিতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার এখতিয়ার না থাকায় শাকিবকে নিষিদ্ধ করা হয় নি, তবে এফডিসির মোট ১৭টি সংগঠন তাঁর সাথে কোন কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সে সমস্যাও সমাধান হয়।

সালমান শাহকে নিয়ে রুবি: আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হয়েছিলেন সালমান শাহ এবং তা করিয়েছিলেন তারই স্ত্রী সামিরা হকের পরিবার- এমন দাবি নিয়েই এ বছরের ৬ আগস্ট ফেসবুকে লাইভে আসেন রাবেয়া সুলতানা রুবি নামে এক নারী।

সে সময় রুবি জানান, তাঁর চীনা স্বামী চ্যাংলিং চ্যাং, যিনি বাংলাদেশে জন চ্যাং নামে পরিচিত ছিলেন, সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা সরাসরিভাবে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। আর হত্যাকাণ্ড সংঘটন করে রুবিরই ভাই রুমি, যাকে পরবর্তীতে মেরে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন রুবি।

বাইশ বছর পর এই চিত্রনায়কের ‘বিউটিশিয়ান’ রুবির এই দাবিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে পিবিআই। কিন্তু, তিনদিন পর ৯ আগস্ট নতুন আরেকটি লাইভ ভিডিওতে এসে ভোল পাল্টান রুবি। তখন বেশ কিছু অসংলগ্ন কথা বলে পুরো বিষয়টি আরও ঘোলাটে করে দেন তিনি। নিজে নির্দিষ্ট ভাবে কোন কিছু না বলে সালমানের স্ত্রী সামিরা ও তাঁর বাবাকে প্রশ্ন করার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন রুবি।

উল্লেখ্য, সালমান শাহ’র লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে থাকা রুবির বিরুদ্ধে এত বছর ধরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছিলেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।