চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেড় বছর পর শুরু হচ্ছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সেবা

দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটে সরাসরি কনসুলার সেবা কার্যক্রম আগামী ২ মে থেকে আবারো শুরু হতে যাচ্ছে।

কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে জরুরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জেদ্দা কনস্যুলেটের নবনিযুক্ত কনসাল জেনারেল নাজমুল হকের সরাসরি নির্দেশে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যবিধির দোহাই দিয়ে এই সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিলেন সদ্যবিদায়ী কনসাল জেনারেল ফয়সাল আহমেদ।

জেদ্দায় অবস্থানরত প্রবাসীদের বাধ্য করা হয় বেসরকারি প্রবাসী সেবা কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট রিনিউসহ কনসুলার সেবা গ্রহণ করতে। এতে করে প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বিশেষ করে সময়মতো পাসপোর্ট ডেলিভারি, প্রবাসী কল্যাণ কার্ডসহ বিভিন্ন সেবা দিতে না পারায় দিনে দিনে প্রবাসীরা ক্ষুব্ধ হতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া বেসরকারি প্রবাসী সেবা কেন্দ্র থেকে প্রবাসীদেরকে এসব সেবা পেতে কনস্যুলেটের নির্ধারিত ফি এর বাইরেও অতিরিক্ত ফি দিতে হতো। তারপরও মিলেনি যথাযথ সেবা। বিশেষ করে পাসপোর্ট রিনিউয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পাসপোর্ট এর বিনিময়ে আরো ৪০ রিয়াল, প্রবাসীকল্যাণ কার্ডের  জন্য সরকার নির্ধারিত ফি উপরে আরো ৪৫ রিয়াল দিতে হতো। তাছাড়া অন্যান্য কার্যক্রমের ছিল নাজেহাল অবস্থা।

কনস্যুলেটের সরাসরি কনসুলার সেবা বন্ধ হওয়ার পর প্রবাসী কার্ডের আবেদন জমা দেওয়ার পর তাদেরকে ডেলিভারির জন্য দুই-তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে অথচ পূর্বে যখন কনস্যুলেটের সরাসরি আবেদন জমা নেয়া হতো তখন দিনে দিনে প্রবাসী কল্যাণ কার্ড প্রবাসীরা হাতে পেয়ে  যেত। এতে করে কনস্যুলেটের সেবায় অত্যন্ত খুশি ছিলেন প্রবাসীরা।

নবনিযুক্ত কনসাল জেনারেল নাজমুল হকের যুগোপযোগী এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অফ ইলেকট্রনিক  মিডিয়াসহ সৌদি আরবে প্রবাসী বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ মনে করেন জেদ্দা কনস্যুলেট আগের মতো তাদের কনসুলার সেবা সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে শুরু করবে পাশাপাশি গণশুনানি সহ-সাধারণ প্রবাসীদের কথা সরাসরি শুনবে এতে করে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের কার্যক্রম বিশেষ করে কনস্যুলেটের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রবাসীদের আস্থা আরো বাড়বে।

প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত আয় দেশে প্রেরণ করে সরকারি সেবার পাশাপাশি বেসরকারি সেবাও চালু রাখার আহ্বান জানান। তবে বেসরকারি প্রবাসী সেবা কেন্দ্রগুলোতে যাতে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখারও আহ্বান তাদের।