চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুস্থ-অসহায়দের পাশে দাঁড়ান

করোনাকালে পরপর দুই দফা লকডাউনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে কর্মহীন নয়তো আয় কমে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এরই মাঝে রমজান মাস প্রায় শেষ হতে চলেছে। এই মাসে দেশে দ্রব্যমূল্যের দাম বরাবরই থাকে আকাশ ছোঁয়া, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। সবমিলিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে দেশের জনগণের একটি বড় অংশ।

দেশে বিগত এপ্রিল ছিল এক উদ্বেগজনক মাস। প্রতিদিনই মৃত্যু আর সংক্রমণের রেকর্ড হচ্ছিল। ভ্যাকসিন না পাওয়ার খবর, হাসপাতালে সিটের জন্য হাহাকার। সে অবস্থা থেকে মে মাসে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে এসেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে এসেছে। তবে লকডাউনের প্রভাবে এখনও সচল হয়নি অর্থনৈতিক কার্যক্রম। গেল বছর দুইটি ঈদ ও এবছর ঈদে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে না পেরে বহু ব্যবসায়ী ও তাদের উপর নির্ভরশীল শ্রমজীবীরা ভয়াবহ সঙ্কটে।

বিজ্ঞাপন

সরকার নানাভাবে গরীব মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছে বটে, তবে সব মানুষের সব চাহিদা মেটানো কখনোই সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সরকারকে বাধ্য হয়েই লকডাউনের ব্যাপারে ছাড় দিতে হয়। প্রায় ৩৫ লাখ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী এককালীন আর্থিক অনুদান দিচ্ছেন। একেবারে না থাকার মধ্যে এই অনুদান গ্রামীণ অর্থনীতিতে কিছুটা অবদান রাখতে পারবে বলে আমাদের ধারণা। তবে অবস্থাসম্পন্ন ও বিভিন্ন সংস্থার উচিত দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের পাশে এগিয়ে আসা। গেল বছর করোনার শুরুতে কয়েক মাস ধরে টানা বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেলেও এবছর সে অনুপাতে খুবই কম।

একদিকে দুস্থ মানুষদের হাহাকার, আরেকদিকে শপিংমল ও মার্কেটে বিরাট লাইন। এতে করে দেশের মানুষের সামর্থ্য আর অবস্থার মাপকাঠি নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। পকেটে টাকা থাকলে তা খরচে বাধা নেই, তবে আশেপাশে থাকা অসহায় মানুষজনদের প্রতিও একটু দৃষ্টি দিলে সমাজ ও দেশ কিছুটা সুন্দর-স্বাভাবিক হবে। এছাড়া পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদ উপলক্ষে যাকাত-ফিতরা দেবার যে প্রচলন, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশি বেশি হলে করোনার এই আঘাত সামলে ওঠা তাদের জন্য কিছুটা সহজ হবে বলে আমরা মনে করি। আমাদের আশাবাদ, যার যার অবস্থান থেকে কিছুটা সক্রিয় হলে এই ক্রান্তিকাল আমরা পার হতে পারবো মানবিক শক্তিতে।

বিজ্ঞাপন