চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ছুটি বাড়ানো হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ছুটির যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সেটা বাড়ানো হতে পারে। তবে ছুটি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাটাও বাড়াতে হবে।’ দেশের এই দু:সময়ে মুনাফালোভীদের প্রতি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশব্যাপী চলমান কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে এসব বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দেশের এই দু:সময়ে দুর্নীতি করলে কেউ ছাড় পাবেনা। দু:সময়ে কেউ যেন সুযোগ নিতে না পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিপদের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে মুনাফা নেওয়াটা অমানবিক হবে। আমাদের কোনো কিছুর অভাব নেই।

বিজ্ঞাপন

এবছর নববর্ষের অনুষ্ঠান না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিবছর বাংলা নববর্ষ উৎসবের সঙ্গে উৎযাপন করে থাকি। এবছর আমরা সেটা বন্ধ রাখি। যারা উৎসব করতে চান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে গান বাজনা করতে পারেন, যেভাবে আমি এখন সবার সঙ্গে কথা বলছি, সবাই শুনবে। তবে জনসমাগম হবে এমন কোনো আয়োজন না করার অনুরোধ করছি।

বিজ্ঞাপন

সবাইকে গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গুজব ছড়ালে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে গুজবে কেউ কান দেবেন না। গুজব রটানো থেকে বিরত থাকুন।

জনসচেতনতা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমেই আমরা এখনো করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। জনগণের নিরাপত্তা আমার কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সুরক্ষা নিজেকেই নিতে হবে না হলে নিজেরই ক্ষতি। বিশ্ব থেকে এখনো করোনা ভাইরাস যায়নি। তাই সচেতন থাকতে হবে। বিভাগীয় শহর পর্যন্ত করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

নিম্নআয়ের মানুষদের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জীবন থেমে থাকবে না। তাই বলে মানুষকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা যেন কষ্ট না পায়, অভুক্ত না থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে। এই অসময়ে দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে বলেছিলাম। কেউ যেন বারবার না পায় আবার কেউ যেন বাদ না পড়ে। সবদিকেই খেয়াল রাখতে হবে। তবে সাহায্য সামগ্রী দিতে গিয়ে লোকসমাগম করা যাবে না। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেসব পৌছে দিতে হবে।

করোনার লক্ষণ দেখা দিলে, দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লুকিয়ে রেখে নিজের ও পরিবারের সর্বনাশ করবেন না।  এর পরে বড় ধাক্কা আসবে অর্থনৈতিক মন্দা। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা। সবকিছুই স্থবির হয়ে আছে। সেজন্য আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে। আমাদের জমি আছে, মানুষ আছে। যার যতটুকু জায়গা আছে চাষ করেন। যা পারেন করেন। ফল, সবজি, মাছ, গরু, ছাগল, ভেড়া পালন করেন। সেটাই পরে কাজে লাগবে।