চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুর্যোগ প্রশমনে কতটা প্রস্তুত আমরা?

‘কমাতে হলে সম্পদের ক্ষতি, বাড়াতে হবে দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সারাদেশে নানা আয়োজনে পালিত হলো আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। মূলত দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে করণীয় বিষয়ে সচেতন করাই এ দিবসের উদ্দেশ্য।

স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের ঠিক আগের বছরে ভয়াবহ এক ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ১৯৭০ সালের সেই ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ১০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। এর বাইরে অন্যান্য ক্ষতির পরিমাণ কেউ নিরুপণ করতে পারেনি। এতেই বোঝা যায়, কতটা ভয়ংকর ছিল সেই ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা।

সেই ঝড়ের পর সিডর, আইলা এবং সর্বশেষ ‘মোরা’র মতো অসংখ্য ঝড় দেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ওই মাত্রায় প্রাণহানী আর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগেই হয়নি। মোরায় ৬ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। আইলায় মারা গিয়েছিল দুই শতাধিক মানুষ। তবে অনেকাংশে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সিডরে নিহত হয় দুই হাজারের বেশি।

এমন পরিসংখ্যানের মানে দাঁড়াচ্ছে, ১৯৭০ সালের পর অনেক শক্তিশালী ঝড়ের কবলে পড়েও তুলনামূলক খুব একটা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি বাংলাদেশকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে কেন তা হলো? এর বড় একটা কারণ দুর্যোগ নিয়ে জনসচেতনতা বেড়েছে। আধুনিক হয়েছে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত সব প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তির উন্নতিতে এখন অনেক অাগে থেকেই জানা যায় ঝড়ের খবর। সেই মতো প্রস্তুতিও নেয়া সম্ভব হয়।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু প্রযুক্তির এমন উন্নতির যুগেও কি আমরা দুর্যোগ মোকাবিলা বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় খুব উন্নত পর্যায়ে আছি? আমরা দেখেছি, সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর উদ্ধার কাজের নানা সীমাবন্ধতা। এমনকি এই কাজের জন্য নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতাও সেখানে খুব একটা সফল ছিল না। সাধারণ মানুষ এবং সবশেষে সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দলকে সেখানে আসতে হয়েছিল।

এটা ঠিক বলে-কয়ে কোনো দুর্যোগ আসে না। কিন্তু তা মোকাবিলায় পূর্ব প্রস্তুতি থাকতে হয়। সেই ধরনের অবকাঠামো, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত দল এমনকি দক্ষ স্বেচ্ছাসেবকদেরও প্রয়োজন হয়। তবেই বড় বড় দুর্যোগ মোকাবিলা অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

আরেকটা বিষয় হলো, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগের কথা প্রচারের অভাবে অনেক সময় সাধারণ মানুষ জানতে পারে না। যেমন; এখন যে কোনো দুর্যোগে বিনা পয়সায় ১০৯০ নম্বরে ডায়াল করে দুর্যোগের পূর্বাভাস, আবহাওয়া বার্তা জানা যায়। কিন্তু কয়জন এই সেবার কথা জানেন?

প্রকৃতির উপর মানুষের হাত না থাকলেও সবকিছুর পর যে কোনো দুর্যোগে মানুষের মৃত্যু এবং সম্পদের ক্ষতি কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে সেটাই বড় কথা। আমরা মনে করি, এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

বিজ্ঞাপন