চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় অবস্থানে আশার আলো

আবারও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি নির্দেশনা দিতে হবে- কেউ দুর্নীতি করলে, সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ যে হারে বেতন আমরা বাড়িয়েছি। এ উদাহরণ মনে হয় পথিবীর কোনও দেশেই নেই। পরপর তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় এসে তিনি নানামুখী কর্মসূচি ও পদক্ষেপের মাধ্যমে যে চমক রাখছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার শক্ত অবস্থান সে ধারারই প্রকাশ বলে আমাদের মনে হচ্ছে। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক ও সময়োপযোগী।

বাংলাদেশে দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধির আকার ধারণ করেছে। সরকারি বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠাণে এমনকি ব্যক্তি পর্যায়েও দুর্নীতি আমাদের অগ্রগতি ব্যাহত করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া এখন এই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অবস্থান এখন ১৭তম। আগের বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫তম৷ একটা সময় দুর্নীতিতে ১ নম্বর অবস্থান থেকে বর্তমানের অবস্থাতে বলাই যায় যে, বাংলাদেশে দুর্নীতি কিছুটা কমেছে। তবে এই অবস্থার আরও পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।

অতীতে বিভিন্ন সময় দুর্নীতির বিভিন্ন কারণের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা কম বলে উল্লেখ করা হতো। গত ১০ বছর ধরে সরকার এই বিষয়টি আমলে নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণের বেশি ধার্য করেছে। জ্যামিতিক হারে দুর্নীতি কমে আসার এটাও একটি কারণ বলে আমরা মনে করি। তবে বাস্তবতার নিরীখে যে হারে দুর্নীতি কমার কথা, তা হয়নি বললে ভুল হবে না।

নতুন মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরে মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী জোট সরকারের সাহসী উচ্চারণ জাতিকে নতুন করে আশা দেখাচ্ছে। আমাদের আশাবাদ, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুধু যেন বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি কমাতে কার্যকর পরিকল্পনা ও প্রয়োগ আমরা দেখতে চাই। আশাকরি এবিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সক্রিয় হবেন।