চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুধ নিয়ে রাজনীতি থাকলে আমাদের বলুন: হাইকোর্ট

দুধ নিয়ে কোনো রাজনীতি হচ্ছে কী না- সে প্রশ্ন তুলে মঙ্গলবার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেছেন, কোনো রাজনীতি থাকলে আমাদের বলুন।

দুধ পরীক্ষার পর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক হাইকোর্টে দেওয়া প্রতিবেদনের উপর শুনানির সময় বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় হাইকোর্ট বলেন: কেউ বলছেন, দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। আবার কেউ বলছেন, ক্ষতিকর উপাদান নেই। আবার ঢাবির শিক্ষক দুধ পরীক্ষার গবেষণা ফল প্রকাশের পর একজন সেক্রেটারি তাকে নিয়ে কথা বললেন। বাট, হোয়াই? দুধ নিয়ে কি কোনো রাজনীতি হচ্ছে? তাহলে আমাদের বলুন।

শুনানির একপর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী বলেন: ঢাবির শিক্ষকরা ১৯টি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছে। বিএসটিআই ৯ টি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছে। আর আমরা ৫টি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছি।

এসময় আদালত বলেন, এইসব প্যারামিটারের কথা বলে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখাবেন না। দুধে এরকম ক্ষতিকর উপাদানের বিষয় অন্য দেশে হলে ফাইন করতে করতে শেষ করে ফেলত।

বিজ্ঞাপন

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দুধ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করে হাইকোর্টে শুনানিতে বলেন বিএসটিআই’র অনুমোদিত ১৪টি কোম্পানির মধ্যে ১১টি পাস্তুরিত দুধে সিসা ও ক্যাডমিয়াম এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এরপর আদালত বলেন সিসা ও ক্যাডমিয়াম যুক্ত দুধ বাজারে থাকা কী সমীচীন?

এরপর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। আদালত পশু চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ফার্মেসি অ্যানিমেল অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি-বিতরণ করতে পারবে না এবং কোনো খামারী গরুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে পারবে না বলে আদেশ দেন।

এছাড়া আদালত তার আদেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যে প্রতিবেদন দিয়েছে সে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে তার বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।

এছাড়া জনস্বার্থে দুধের দূষণ পরীক্ষা ও গবেষণায় বিএসটিআই নিবন্ধিত দুধ কোম্পানিগুলোকে একটি তহবিল গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আজ আদালতে বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সরকার এম আর হাসান। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মামুন মাহবুব। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার ফরিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

Bellow Post-Green View