চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুধ-দইয়ে ভেজাল: জড়িতদের তালিকা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

দুধ, দই এবং পশু খাদ্যে ভেজাল মেশানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা ১৫ মে’র মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন এবং এবিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ১৫ মে দিন ধার্য করেন।

আদালতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফরিদুল আলম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক।

এদিকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক  প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ আদালতে দাখিল করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে:

কাঁচা তরল দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে অনুজৈবিক বিশ্লেষণ রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯৩টি নমুনাতে টিপিসি ও কলিফরম কাউন্ট ক্ষতিকর মাত্রায় বিদ্যমান এবং একটি নমুনায় সালমোনেলা পাওয়া গেছে। রাসায়নিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৫টি নমুনাতে সিসা, ৩টিতে আফলাটক্সিন, ১০টিতে টেট্রাসাইক্লিন, একটিতে সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং ৯টিতে পেস্টিসাইট (অ্যান্ডোসালফান) ক্ষতিকর মাত্রায় পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

আর প্যাকেটজাত তরল দুধের ৩১টি নমুনার (দেশি ২১টি এবং আমদানি করা ১০টি) মধ্যে ১৭টি দেশি দুধের নমুনাতে টিপিসি ও কলিফরম কাউন্ট, ১৪টিতে মোল্ডস এবং আমদানি করা তরল দুধের একটি নমুনাতে কলিফরম কাউন্ট ক্ষতিকর মাত্রায় বিদ্যমান। রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশি দুধের একটি নমুনাতে আফলাটক্সিন, ৬টিতে টেট্রাসাইক্লিং এবং আমদানি দুধের তিনটিতে টেট্রাসাইক্লিং ক্ষতিকর মাত্রায় রয়েছে।

এছাড়া দইয়ের ৩৩টি নমুনার ১৭টিতে টিপিসি, ৬টিতে পলিফরম কাউন্ট, ১৭টিতে ইস্ট/মোল্ড এবং একটিতে সিসা ক্ষতিকর মাত্রায় বিদ্যমান।অন্যদিকে পশু খাদ্যের ৩০টির নমুনার মধ্যে ১৬টিতে ক্রোমিয়াম, ৪টিতে আফলাটক্সিন, ২২টিতে টেট্রাসাইক্লং, ২৬টিতে এনরোফ্লক্সাসিন, ৩০টিতে সিফরোফ্লক্সাসিন এবং ২টিতে পেস্টিসাইট (এন্ডসালফান) ক্ষতিকর মাত্রায় বিদ্যমান।

এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশের পর ১৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মো. মাহবুব কবিরকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবং কমিটির কর্ম পরিকল্পনার তথ্য আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ওই কর্ম পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে-(১) কাঁচা তরল ও পাস্তুরিত দুধের নমুনা সংগ্রহ, গবেষণাগারে পরীক্ষা ও কমিটি কর্তৃক ফলাফল পর্যালোচনা; (২) পশু খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ এবং গবেষণাগারে পরীক্ষা ও কমিটি কর্তৃক ফলাফল পর্যালোচনা এবং (৩) প্রাথমিক উৎপাদন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ, ফলাফলসমূহের তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং কমিটি কর্তৃক যথাযথ সুপারিশ প্রণয়ন।

এর আগে দুধ, দই ও গো-খাদ্যে কীটনাশক, ব্যাকটেরিয়া, এন্টিবায়োটিক, সীসাসহ মানব দেহের জন্য বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে জনস্বাস্থ্য ইনষ্টিটিউটের গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

সেই আদেশে দুধ, দই এবং গো-খাদ্যে ভেজাল মেশানোর ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গাভির দুধ ও বিভিন্ন প্যাকেটজাত দুধ, দই ও গো-খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে তাতে কি পরিমান কীটনাশক, ব্যাকটেরিয়া, এন্টিবায়োটিক, রাসায়নিক, সীসাসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে তা নিরূপন করতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশের পর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেন।

বিজ্ঞাপন