চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দু’দেশের দুই প্রধান বিচারপতির আছে সাংবাদিকতার স্মৃতি

দুজন এখন দুদেশের প্রধান বিচারপতি। তবে দুজনের পেশাগত জীবনেই আছে সাংবাদিকতার স্মৃতি। হ্যাঁ, আমাদের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও ভারতের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা’র কথাই বলছি।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হবার পর ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্য সাংবাদিকরা তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেদিন তিনি বলেন, ‘আমিও একসময় সংবাদপত্রে কাজ করেছি। আমিও সাংবাদিক ছিলাম। আইনজীবী থাকার সময় কিছুদিন দৈনিক সংবাদে আদালত সাংবাদিকতা করেছি।’ সম্প্রতি ভার্চুয়াল আদালত চলাকালীন এক কথা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন,’যখন সাংবাদিকতা করেছি। তখন সাংবাদিকের আইডি কার্ড সব সময় মানিব্যাগেই রাখতাম।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার নাঙ্গালকোটের দেওভান্ডার গ্রামে জন্মগ্রহণ করা সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের শিক্ষা জীবনের শুরু নিজ শহরেই। কুমিল্লা জেলা স্কুল থেকে সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট পাস করার পর ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর কুমিল্লা আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৮১ সালে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। আর ১৯৮৩ সালে হন হাইকোর্টের আইনজীবী। একপর্যায়ে ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এরপর ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হন হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারপতি। এর ৮ বছর পর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। আর ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিশেবে শপথ নেন।

আমাদের প্রধান বিচারপতির মতই ভারতের বর্তমান প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা’র জীবনেও রয়েছে সাংবাদিকতার স্মৃতি। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এন ভি রামানা ১৯৮৩ সালে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরুর আগে ইনাডু সংবাদপত্রে কিছুদিন সাংবাদিকতা করেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নিজের অতীত দিনগুলির কথা স্মরণ করে ভারতের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা বলেন, ‘একটা সময় আমিও সাংবাদিকতা করেছি। তখন আমাদের গাড়ি বা মোটরবাইক থাকত না। আমাদের বাসে চড়ে খবর সংগ্রহ করতে যেতে হত। আমাদের ওপর নির্দেশ থাকত আমরা যেন কোনও অনুষ্ঠানের উদ্যোগতাদের কাছ থেকে যাতায়াতের জন্য গাড়ি না নিই।’

১৯৫৭ সালের ২৭ অগাস্ট ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নুথলাপতি ভেঙ্কট (এন ভি) রামানা। ১৯৮৩ সালে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরুর আগে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত ইনাডু সংবাদপত্রে সাংবাদিকতা করেন তিনি। ১৭ বছর আইন পেশায় থেকে ২০০০ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন এন ভি রামানা।২০১৪ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে যুক্ত হবার আগে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলেছেন।সবশেষ ২০২১ সালের ২৪ এপ্রিল ভারতের ৪৮তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি এন ভি রামানা।