চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুদক নয়, মিডিয়াই আসল আতঙ্কের নাম: ইকবাল মাহমুদ

দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ। তিনি এই পদে বিদায়ী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বদিউজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন। ইকবাল মাহমুদ ১৯৫৫ সালে চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার পিতা মোহাম্মদ আবদুল লতিফ একজন আদর্শ স্কুল শিক্ষক ছিলেন। তার স্কুল জীবন কেটেছে সাতক্ষীরায় আশাশুনি হাইস্কুলে। এ স্কুল থেকে ১৯৭২ সালে এসএসসি এবং নটরডেম কলেজ হতে ১৯৭৪ সালে এইচএসসি পাস করেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ২০০২ সালে নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স অফ পলিসি স্টাডি ডিগ্রি অর্জন করেন।  বর্ণাঢ়্য চাকরি জীবনে বহু স্থানে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য চাকরিক্ষেত্র হচ্ছে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মন্ত্রী পরিষদের সিনিয়র সহকারী সচিব, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সিভিল এ্যাফেয়ার্স অফিসার, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির উপ পরিচালক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ইত্যাদি।
১৯৯৯ সালে তিনি গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপ সচিব এবং ২০০৪ সালের অক্টোবরে তিনি জাইকার উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।

বিজ্ঞাপন

২০০৫ সালে মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং ২০০৬ সালে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি পেয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং ২০০৭ সালে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালের জুন মাসে পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন ইকবাল মাহমুদ।

২০০৯ সালে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব নিযুক্ত হন। এরপর ২০১২ সালে সরকার সিনিয়র সচিব নামে নতুন পদ সৃষ্টি করলে আরও সাতজনের সঙ্গে ইকবাল মাহমুদও ওই পদ লাভ করেন। তখন তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। একই বছরের নভেম্বরে তাকে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এডিবি এর বিকল্প নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর অবসরোত্তর ছুটিতে পিআরএল যান। অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে তাকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

সরকারের এই সৃজনশীল কর্মকর্তা উল্লেখিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সরকারের মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, আইসিডিডিআরবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য, আইডিসিওএল এর চেয়ারম্যান, আইআইএফসি এর চেয়ারম্যান, টেলিটক এর চেয়ারম্যান, বিটিসিএল এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানী লিমিটেড এর চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশে কৃষি ব্যাংকের বোর্ড সদস্য হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তি জীবনে তিনি ১ পুত্র ও ১ কন্যার জনক। তার সহধর্মিণী ডা. খাদিজা বেগম একজন চিকিৎসক। বর্তমানে তিনি আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া ডেভিস এ চাকরি করছেন। সম্প্রতি তিনি দুর্নীতির নানা প্রসঙ্গে জাহিদ নেওয়াজ খানের পরিকল্পনা ও সোমা ইসলামের সাক্ষাতকারে চ্যানেল আই টু দ্য পয়েন্ট অনুষ্ঠানে কথা বলেন।

প্রশ্ন: এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম কি? কোন সে প্রতিষ্ঠান? তার নাম দুদক? এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আপনি? শুরুতেই জানতে চাই- কেমন আছেন আপনি?

ইকবাল মাহমুদ: ভালোই তো আছি। খারাপ তো নাই? কিন্তু আপনার শুরুর যে কথাগুলো তার মধ্যে আমার আপত্তি আছে। আর তা হলো-আতঙ্কের নাম। এই ব্যাপারে আমার আপত্তি। এখানে আতঙ্কের কিছু নাই। দুদক কোন আতঙ্ক সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান নয়।

প্রশ্ন: আর দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আপনাদের যে অভিযান?

ইকবাল মাহমুদ: অভিযান না- বেসিক্যালি এটা আমাদের কাজ।  কিন্তু আপনি যদি বলতেন যে, দুর্নীতিবাজদের জন্যে আতঙ্ক। তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু ইন জেনারেল বলা হয়ে গেছে- এই জন্যে আমার আপত্তিটা। সাধারণ মানুষ বা যারা সততার চর্চা করেন- যারা সৎ ও নিষ্ঠাবান তাদের জন্যে কোন ক্রমেই দুদক আতঙ্কের নয় বরং দুদক তাদের জন্যে আশ্রয়স্থল।

প্রশ্ন: দুদক এখন অনেক গতিশীল- এর কারণ কী?

ইকবাল মাহমুদ: কারণ হচ্ছেন আপনারা। গতিশীল হওয়ার মুল কারণ আপনারা। কারণ আপনারা সম্মানীত সংবাদকর্মী যারা আছেন- তারা সংবাদ মানুষের কাছে নিয়ে আসেন। কিভাবে? হয় টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে অথবা প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে। যে ভাবেই হোক মিডিয়ার দ্বারা। মিডিয়া সরব বলেই দুদক সরব। কারণ আপনাদের জানতে হবে যে, আমরা অভিযোগ কোথা থেকে পাই? আমাদের স্টাডি বলে যে, আমাদের ৭৫-৮০ পারসেন্ট অভিযোগ আসে মিডিয়ার মাধ্যমে। মিডিয়া যেহেতু সরব হয়ে গেছে ইদানিং। আমরা প্রত্যেক দিন না হলে ২০-৩০ টা আমাদের আয়ত্বের মধ্যে আছে অনুসন্ধান বা তদন্ত করার জন্যে এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। যার কারণে এগুলোর অনুসন্ধান চলছে।

প্রশ্ন: মিডিয়া সরব বলেই আপনারা সরব। এর সাথে জনগণ আরও মনে করেন- সরকার নিজ দলের মধ্যে শুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করছে- এই কারণে দুদকের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে? এর সাথে কি আসলেই কোন সম্পর্ক আছে?

ইকবাল মাহমুদ: তার সাথে কোন সম্পর্ক নাই। কারণ কি জানেন? আপনার পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট আগে থেকেই ছিল।প্রথমত যে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাদের মেনিফেস্টোর মধ্যে এটা ছিল যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বা সুশাসনের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নেবে। তাই সুশাসনের একটা বড় অংশ হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ বা দমন যে কোন একটা। এটা নতুন কিছু নয় কিন্তু? শুদ্ধি অভিযানের কথা যদি বলেন সেটা পলিটিক্যাল সাইড। সেখানে আমার কোন মন্তব্য নাই। কিন্তু সরকার তো আমাকে কিছু জানায়নি। আমাদের নিজস্ব লোক আছে নিজস্ব বাজেট আছে।আমরা সেই নিজস্ব বাজেট দিয়েই চলি।বেসিক্যালি এটি এসেছে সংবাদপত্রের মাধ্যমে। সরকার ওখানে কি করছে আমরা জানি না। কিন্তু সংবাদপত্রে এই খবরগুলো এসেছে- ক,খ,গ এই করেছে সেই করেছে।তারপরে এতো সম্পদ এটা খেলেছে ওটা খেলেছে এই জিনিসগুলো আমাদের কাছে এসেছে এবং আপনি লক্ষ্য করবেন সুক্ষ্ণভাবে-ক্যাসিনো কান্ড ঠান্ড কি কি সব বলেন না আপনারা? আমরা কিন্তু ক্যাসিনো কান্ডের কথা বলিনি এখনো।আমরা বলি অবৈধ সম্পদ আছে কিনা? সেই অবৈধ সম্পদের ব্যাপারই আমরা দেখছি?

প্রশ্ন: আপনার চেয়ারে আপনি সৎ। আমার উল্টোদিকের চেয়ারে আমি অসৎ। সকলেই অসৎ- এটা বন্ধের উপায় কি?

ইকবাল মাহমুদ: এই জন্যে আপনি দেখছেন মাঝে মাঝে ঘুষসহ ধরা হচ্ছে টু ডেমনস্ট্রেট- ভাই, ঘুষ খাইয়ো না, খাইলে এইভাবে ধরা হবে। আপনারা দেখেছেন- হাতে হাতকড়া পড়ানো হচ্ছে?

প্রশ্ন: বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা যখন এই লেনদেন করছেন। তারা যখন একটা কাজের জন্যে ঘুষ দিচ্ছেন- তখন তারা বলছেন এটা সুনীতি। আর ঘুষসহ ধরা পড়লে তখন ওটা হচ্ছে দুর্নীতি। সুনীতি আর দুর্নীতি এই দুইটার মধ্যে যে চলমান দেশ-সেই দুর্নীতি বন্ধের উপায় কি?

ইকবাল মাহমুদ: দুর্নীতি বন্ধের জন্যে সমাজে রোল মডেলের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তারা বাড়বে- এটা হলো এক। সবচেয়ে বড় জায়গাটা কি জানেন? আমরা যারা একটু বড় হয়ে গেছি। বড় বলতে বোঝাচ্ছি বয়স হয়ে গেছে অনেক। তাদের মাইন্ডসেট চেঞ্জ করা ভেরি ডিফিকাল্ট টাস্ক। কিন্তু আমার যারা আগামী প্রজন্ম যারা ২০৩০ সালে দেশের দায়িত্ব নেবে- তাদের মাইন্ডসেট চেঞ্জ করা কিন্তু খুবই সহজ।

প্রশ্ন: সারাদেশে যারা দুর্নীতিবাজ আছেন- তাদের জন্যে দুদকের আওয়াজটা কি?

ইকবাল মাহমুদ: আমরা তো সংগ্রামী বক্তব্য দেওয়ার মানুষ না।

প্রশ্ন: তবে যারা দুর্নীতিবাজ তাদের কাছে তো আপনারা আতঙ্কের?

ইকবাল মাহমুদ: আমি জানি না আতঙ্কের কিনা? তবে আমি প্রায়ই চিন্তা করি যেদিন চলে যাব সেদিন কি বলবো? এটা মাথায় থাকেই। আমি একটা বাক্য বের করেছি হয়তো সেটাই বলে চলে যাব- সেটি হলো, আপনারা তো জিঙ্গেস করবেন আপনার সাফল্য কি? বা কমিশনের কি সাফল্য গেলো ৫ বছরে? সাফল্য একটাই- সমাজে একটা বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে যে, দুর্নীতি করলে আজকে পার পাবেন, কালকে পার পাবেন, পরশু পাবেন কিন্তু একদিন না একদিন আপনাকে ধরা পড়তে হবে। দুর্নীতি আসলে টেবিলের তলায়ও না টেবিলের উপরেও না। দুর্নীতি আমার আপনায় মাথায়।

প্রশ্ন: দুদক তো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কেন মানুষের মাথায় আসে ক্ষমতাসীনদের দ্বারা পরিচালিত হয় দুদক?

ইকবাল মাহমুদ: ওই যে আপনাকে বললাম- পারসেপশন। একটা পারসেপশন হয়ে গেলে তা দূর করা বেশ কঠিন। আমরা কিছুটা সেই পারসেপশন দূর করতে পেরেছি। এই জন্যে আপনারা এখন বলেন আতঙ্কের নাম। কিছুটা দূর তো হয়েছে। এই আতঙ্ক কি যারা ক্ষমতায় নাই তাদের? নাকি যারা ক্ষমতায় আছে তাদের? আমার তো মনে হয় সবার আতঙ্ক- আপনার ভাষায় ফিরে এসে বলি। ক্ষমতাবান লোক আসছে না যে- তা তো নয়? আসছে তো?

প্রশ্ন: সংখ্যায় খুব কম- এটি আরেকটি অভিযোগ?

ইকবাল মাহমুদ: নো, নো, নো। সংখ্যায় খুব কম কোথায়? কালকেও তো ক্ষমতাবান একজন এসেছেন?

প্রশ্ন: কাদের তালিকা বেশি যারা ক্ষমতায় আছেন তারা নাকি যারা ক্ষমতায় নেই তারা?

ইকবাল মাহমুদ: ক্ষমতায় যারা আছেন তারা তালিকায় বেশি আছেন ১৩৫ জন- সো ফার। প্রব্লেম হচ্ছে আমাদের সক্ষমতার কিছু অভাব আছে। আমাদের এতো লোকও নাই যে, এতো এনকোয়ারি করবো। সো, উই আর গোয়িং স্লোলি স্লোলি। আপনারা দেখতে পাবেন যে, দিনের পর দিন একেক জন আসছেন যাচ্ছেন আমরা এনকোয়ারি করছি। হয়তো কোনটা কিছুটা হয়রানিমূলকও হতে পারে। অনেকেই হয়রানিভাবে করে তো? করে না তা তো নয়? কারণ আমরা তো দুই পকেটে দুইটা রাখি। যখন যেটা লাগছে সেটা কমপ্লেন করি। সো উই আর ভেরি কেয়ারফুল।আমার কাছে লিস্ট আছে ক্ষমতাবানদের ১৩৫ জনের।

প্রশ্ন: এই ১৩৫ জনের লিস্ট কি ভবিষ্যতে বড় হবে নাকি কর্তন হয়ে যাবে?

ইকবাল মাহমুদ: ইটস ডিপেন্ড অন এনকোয়ারি।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: বাধ্য হয়ে কর্তন করতে হবে কি?

ইকবাল মাহমুদ: শোনেন, বাধ্য হওয়ার কোন স্কোপ নাই। আমি আপনাকে বলি- দিস ইজ নট মাই চেয়ার। দিস ইজ নট মাই ফাদারস চেয়ার। এটা আমার পূর্ব পুরুষের চেয়ার নয়। এই চেয়ার তো আপনার? আপনি একদিন আসবেন এই চেয়ারে। সো আই অলওয়েজ থিংক। দিস ইজ নট মাই চেয়ার। দিস ইজ নট মাই অফিস। আই হ্যাভ টু গো। আপনি যেমন জন্মেছেন- ইউ হ্যাভ টু গো। আমার নিজের এই পর্যন্ত ২৬ বার বদলি হয়েছে। আমি খুব আনন্দের সাথে চলে গেছি। কারন কি জানেন? আমি কখনো চেয়ারকে ভালবাসিনি। এই চেয়ার আমার না। এই জন্যে চেয়ারের প্রতি কোন মায়া ভালবাসা আমার নাই। তাই সেই জন্যেই বলছি ১৩৫ জনের লিস্ট আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বড় হচ্ছে দিন দিন। আগে ছিল ৫০ জন। সেটা বেড়ে বেড়ে ১৩৫ জনে এসে ঠেকেছে এবং তা আরও বড় হচ্ছে।জিঙ্গেল করলে আজকে কতো বলতে পারবো। আজকেও কয়েকজন বাড়বে- ইফ আই অ্যাম নট রং। আপনাদের কল্যানেই বাড়ছে এই তালিকা। দুদক নয় মিডিয়াই আসল আতঙ্কের নাম। আপনাদের কল্যানেই তালিকা বাড়ছে। হ্যাঁ- এনকোয়ারি করে এটা কমতেও পারে বাড়তেও পারে। কিন্তু বাধ্য হয়ে কোন নাম কাটা যাবে- এটা ইমপসিবল।

প্রশ্ন: সরকার নিজেদের প্রয়োজনে শুদ্ধি অভিযান করছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সরকারের এই কাজ কি দুদকের জন্যে অনুপ্রেরণার?

ইকবাল মাহমুদ: যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকেন । সুনীতি এবং দুর্নীতির যে কোন তথ্য তাদের কাছেই থাকে।  আমরা ইনটেলিজেন্স এজেন্সি তো নয় যে- সেগুলো খুঁজে খুঁজে বের করবো। সরকার যখন এইগুলো নিজেরাই বের করে ফেলে তখন তো আমাদের প্লেটে অনেক খাবার চলে আসে। সো, দ্যাট ইজ হোয়াট হ্যাপেন, একচুয়েলি? তাই সরকারকে সাধুবাদ দেওয়াই আমাদের সমীচীন যে, সরকার এই কাজগুলো করছেন বলেই কিন্তু এগুলোর তথ্য চলে আসছে এবং আপনাদের মাধ্যমে আসছে। সরকার কিন্তু আমাকে কোন তথ্য দেয় নাই- টিল টু ডে। আই হ্যাভ নট রিসিভ এনি ইনফরমেশন ফ্রম দ্য গর্ভমেন্ট।

প্রশ্ন: কিন্তু এই অভিযোগ কেন আসে যে, সরকারের তালিকা থেকেই দুদক সব কিছু করে?

ইকবাল মাহমুদ: তা আপনাকে পরিস্কার করতে চাই। সরকারের তালিকা বলতে আমাদের কোন তালিকা নাই। আমাদের নিজস্ব তালিকা আছে- এন্ড উই আর গোয়িং অ্যাকোর্ডিং টু আওয়ার ওন লিস্ট। আমাদের কাজের ধারার মধ্যে যে সব নাম আছে। সেই নাম ধরেই আমরা কাজগুলো করছি।

প্রশ্ন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ক্যাসিনোবাজ কারা- তার কোন তালিকা দুদক চেয়ে পাঠিয়েছে?

ইকবাল মাহমুদ: নো, নো। অনেক কিছুতেই এভাবে আমাদের নাম ব্যবহার করা হয়।যেমন, কালকে আমি দেখলাম-আমাদের এক ডাইরেক্টরের সই করে যে, একজন লোকের বিমানবন্দরে তার যাওয়া আটকে দিয়েছে। তো আমার ডাইরেক্টর এসে বললো যে, স্যার আমি তো এই চিঠি দেই নাই।তখন আমাদের ইনটেলিজেন্স ইউনিটকে বললাম- দেখো তো এটা কারা কি করলো? আপনি কি দেখাতে পারবেন যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লিখেছি যে, কারা ক্যাসিনো খেলেছে? ক্যাসিনো খেলাটা- ইট ইজ নট আওয়ার ম্যান্ডেড। কে কি খেলবে তা কিন্তু আমাদের দায়িত্ব না। এটা পুলিশের কাজ।

প্রশ্ন: তারপরেও কেন পত্রিকায় বড় বড় হেডিং হয় যে, সরকারের ফরমূলাতেই দুদক পরিচালিত হয়?

ইকবাল মাহমুদ: এই জায়গা থেকে আমরা কিছুটা বের হয়ে এসেছি।

প্রশ্ন: রাজনৈতিক প্রভাবে দুদক প্রভাবিত?

ইকবাল মাহমুদ: না- এই কথাটা সত্য না। তার কারণ রাজনৈতিক প্রভাব হয় তাহলে এখন সরকারে কোন দল? সেই দলের লোক কি এই দুদকে আসে নাই?

প্রশ্ন: অবশ্যই এসেছে?

ইকবাল মাহমুদ: যদি এসে থাকে তাহলে সরকারে যে আছে তাকে কেন টানবো। সরকারের বিরুদ্ধে যে আছে তাকে টানবো? সো, ইউ হ্যাভ টু রিয়ালাইজড- সরকারের কতো উচ্চপদস্থ লোকেরা এখানে এসেছে।

প্রশ্ন: অনেক বড় বড় লোককে আপনারা ডাকছেন দুদকে। আপনি সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান। এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

ইকবাল মাহমুদ: আমার গ্রামের মানুষ আপনারা বলেন চুনোপুঁটি। কিন্তু আমরা বলি তারাই সবচেয়ে বড়। কারণ ৮০ ভাগ লোককে এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ভুমি অফিসে হয়রানি করা হচ্ছে। কাবিখা’য় হয়রানি হচ্ছে। এলজিইডি’র কাজে হয়রানি হচ্ছে।আপনারা দেখেন শুধু বড় বড় লোকদের ডাকে না কেন? আমরা ছোট থেকে বড়তে আসছি। আপনাদের বুঝতে হবে। আমি প্রায়েই বলি- ছোট্ট উদাহরন।ছোট গাছ কিন্তু উপড়ানো খুব সহজ। সেই সহজ গাছ আস্তে আস্তে করে করে বড় গাছে আসতে হবে।

প্রশ্ন: কিন্তু এখন কি আর ছোট গাছ আছে? নাকি সবই বড় গাছ হয়ে গেছে?

ইকবাল মাহমুদ: না-না-না। যথেষ্ট ছোট গাছ আছে। আমাদের অভিজ্ঞতাই তো তাই। আপনি দেখবেন ঘুষসহ ধরা পড়ে কোন লোক? হয় তহশীলদার নয় সাব রেজিস্টার? কিন্তু বড় বড় ঘুষের কাজ তদন্ত করতে অনেক সময় চলে যায়।

প্রশ্ন: ছোট থেকে বড় সব জায়গায়ই তো দুর্নীতির কড়াল গ্রাস? ব্যক্তির দুর্নীতি কিন্তু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি আছে? এই যে বালিশ, কাঁথা, পর্দা-দুর্নীতির পাহাড়। সেই পাহাড়ে কতখানি পৌছাতে পেরেছে দুদক?

ইকবাল মাহমুদ: হ্যাঁ-হ্যাঁ-হ্যাঁ। এটা সত্য।আপনি যে প্রথমে শুরু করলেন- সর্বগ্রাসী। আসলে দুর্নীতি এমন জায়গায় পৌছেছে- ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্র সব জায়গায় দুর্নীতি ব্যাপৃত হয়ে গেছে। সেই কারণে আমরা চিন্তা করলাম যে, সবকিছু তো আমরা পারবো না। তাই কিছু প্রতিষ্ঠান আইডেন্টিফাই করি- যারা সরকারি সার্ভিস ডেলিভারী করে। যেমন- পিডাব্লিউডি, পিডিবি, তারপরে অনেক আছে-এলজিইডি এই রকম দুর্নীতিপ্রবণ ২৮ টি প্রতিষ্ঠান যাদেরকে মানুষ জানে এরা দুর্নীতি করে। এই সব প্রতিষ্ঠানের জন্যে আমরা ২৮টি ইন্টারনাল কমিটি করে তাদের দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। উৎস চিহ্নিত করার পরে আপনি তো জানেন- আইডেন্টিফায়িং দ্যা প্রব্লেম ইজ বেসিক্যালি ইউ ক্যান সলভ ফিফটি পার্সেন্ট প্রব্লেম। দুর্নীতির উৎস আইডেন্টিফাই করা গেলে বড় কাজ হয়ে যায়। সেই চিন্তাপ্রসূত ধারণা থেকে আমরা মনে করেছি যে, ২৮টি প্রতিষ্ঠানের যদি উৎসমুখ চিহ্নিত করতে পারি তাহলে সিস্টেম ডেভলপড করার জন্যে আমরা সরকারকে বলতে পারি যে, আপনারা এই পদ্ধতিটা এইভাবে পরিবর্তন করতে পারলে এই দুর্নীতি বন্ধ হবে।

প্রশ্ন: দুদক কি কাউকে হয়রানি করে? হয়রানি করার জন্যে ডাকে? আপনি উত্তর দিবেন- নিশ্চয়ই না? আমরা অনেক সময় দেখি- দুদক ক্যামেরা ট্রায়াল করছে।অর্থ্যাৎ কেউ দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে- হয় গণমাধ্যমের কাছে? কি কারণ তা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিংবা দুদক নিজেরাই তার বিরুদ্ধে কি তদন্ত করা হচ্ছে তা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেউ দোষী না হওয়ার আগেই তাকে এই যে, ক্যামেরা ট্রায়ালে নিয়ে এসে ভিকটিম বানিয়ে ফেলা-এটা কতোটা যৌক্তিক কিংবা আইন সম্মত? আমি কোন প্রেক্ষাপটে বলছি আপনি নিশ্চয়ই জানেন?

ইকবাল মাহমুদ: দিস ইজ ভেরি আনফরচুনেট।  আমরা কখনোই আপনাদেরকে ডেকে আনি নাই। ক্যামেরা ট্রায়ালের কথা যে আপনারা বলছেন? আমরা কখনোই আপনাদেরক ডেকে আনিনি। আপনারা আসেন- আপনারা ক্যামেরা ধরেন। ক্যামেরা তো আমাদের কাছে নাই? আমাদের পিআরও যদি একটা এভিডেন্স দিতে পারেন যে, পিআরও প্রেস রিলিজ দিয়েছে। হ্যাঁ- দুই এক সময় আমরা প্রেস রিলিজ দিয়েছি যে, এই এ এই হয়েছে এবং এই ঘটনা ঘটেছে। বাট নট ইন এ পার্টিকুলার কেস। আমরা তো ক্যামেরা ট্রায়েল করতে চাই না? আপনারা যদি না আসেন- মোস্ট ওয়েলকাম।

প্রশ্ন: অনেক সময় এখান থেকে তথ্যগুলো চলে যায়?

ইকবাল মাহমুদ: নো-নো-নো। তথ্যগুলো আমরা দেই না কাউকে।

প্রশ্ন: দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই তথ্যগুলো চলে যায়। আপনি জানেন কয়েকদিন আগে এসেছিলেন একজন সম্মানীত সম্পাদক? তিনি এসে বললেন, তিনি দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই যে যে কারণে তাকে বিব্রত করা হলো? উনি এসে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলে গেছেন?

ইকবাল মাহমুদ: না-না-না। উনার সামনে ক্যামেরা কে ধরলো? আমি তো ধরি নাই? ক্যামেরা তো ধরলেন আপনারা?

প্রশ্ন: কিন্তু তথ্যগুলো তো এখান থেকেই গেছে?

ইকবাল মাহমুদ: একটা চিঠি যখন যায়।এটা একটা পাবলিক ডকুমেন্ট। তথ্য কিভাবে পেয়েছে? আমরা তো আর দেই নাই আপনাকে? আপনি এসেছেন কিভাবে? আজকে যেমন আপনি একেবারে প্রোগ্রাম করে এসেছেন? আমার লোকজনের সাথে কথা বলে। আমার পিএস টাইম দিয়ে আপনি এসেছেন। সেই সম্পাদক কে আমি তো জানি না? আমাদের নিম্নস্তরে যারা কাজ করেন ইনভেস্টিগেটর তারা চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠি কিভাবে কোথায় গেছে আমরা তো জানি না এটা? এখন আমি যদি বলি আপনিই জানিয়েছেন- তাহলে আপনি কি বলবেন? আপনার উত্তর কি? আপনিও তো জানাতে পারেন? নাকি-দেয়ার ইজ নো পসিবিলিটিজ- যে, আপনি জানাননি? আমি যতোটুকু জেনেছি- যিনি এসেছিলেন তিনি সময় চেয়েছেন। সময় চাওয়ার পরে- উনি এসেছিলেন কেন? হুয়াই? আরেকটা জিনিস হলো- আমি যতোটুকু জানি, সময় চাওয়ার পরে আমরা নরমালি সময় দেই না। কারণ ব্যাপারটা হচ্ছে কি? আমরা আপনাকে না শুনেই কিন্তু- উই ক্যান প্রসিকিউর। আমরা কেন শুনি? ওই যে কন্সটিটিউশনে বলা আছে-কাউকে আপনি না শুনে কিছু করবেন না। আপনারা যদি চান। আপনারা যদি মনে করেন যে, কাউকে শোনার দরকার নাই। আমরা তা পারি। অসুবিধা নাই।

প্রশ্ন: দুর্নীতি প্রতিরোধে কি করতে চান? দুদকের একার পক্ষে কি দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব?

ইকবাল মাহমুদ: দেখুন- একলা চলো রে। এটা হবে না। সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া ।আপনার আমার সরকার রাষ্ট্রের পদ্ধতি রাজনৈতিক দল সবার সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া এবং একটি সমন্বিত কমিটমেন্ট প্রয়োজন। উইদাউট দ্যাট কমেটমেন্ট- আপনি দুর্নীতি কমাতে পারবেন না। এই কমিটমেন্ট না থাকলে দুর্নীতি আরও বেগবান হবে। সেটা দেশের জন্যে মঙ্গল হবে না। ফিউচার জেনারেশনের জন্যে সেটা বড় একটা আতঙ্কের হবে। আপনি শুরুতেই আতঙ্ক দিয়ে শুরু করলেন না? আমি সেই আতঙ্কের কথা বলতে চাই। যদি না আমরা সবাই সমন্বিতভাবে একসঙ্গে একযোগে -ওয়ার্কিং টুগেদার-যদি আমরা না করি দুর্নীতি প্রশমনে বা দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে আতঙ্ক থাকবে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যে।

Bellow Post-Green View