চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুদকের নামে ভুয়া হুঁশিয়ারি

এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে দুদক। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে দুদকের পক্ষে।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, বিজ্ঞাপনের বিষয়টি অতি উৎসাহীদের কর্মকাণ্ড। এতে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অপরদিকে দুদকের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের তথ্য প্রচারকারীদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ছবি। যেখানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি (কেন্দ্র ফি সহ): বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১,৫৬৫ টাকা। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য ১,৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অতিরিক্ত ফি দাবি করলে ‘১০৬’ নম্বরে ফোন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

অপরদিকে, জাতীয় শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত অর্থের পরিমাণ ১৮০০ টাকা। বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৮০ টাকা।

জাতীয় শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক যে ফি অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে তার সাথে দুদক প্রদত্ত কথিত ওই বিজ্ঞাপনের মধ্যে তফাৎ দেখা গেছে ২৩৫ টাকার। আর এতেই জনমনে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। কেউ কেউ বলছেন দুদক যে ২৩৫ টাকার ঘাটতি দেখিয়েছে সেই টাকা কি সরকার দেবে?

বিষয়টি খোলাসা করতে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন দুদকের সহকারি পরিচালক মো: জাহিদ কালাম। তিনি বলেন, অতি উৎসাহী গোষ্ঠীর কারণে এ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement

জাহিদ কালাম বলেন: ‘এ ধরণের কোনো বিজ্ঞাপন দুদক দেয়নি। অতি উৎসাহী একদল লোকের কারণে এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য যে পরিমাণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তার থেকে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ টাকাও বেশি নিলে ব্যবস্থা নেবে দুদক।’

সেজন্য এ ধরনের বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত না হবার পরামর্শ দিয়েছেন এ কর্মকর্তা। অপরদিকে জাতীয় শিক্ষাবোর্ড বলছে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ‘সব রকম ফি এর সাথে  সংযুক্ত থাকে বোর্ড ফি ও কেন্দ্র ফি। ওই বিজ্ঞাপনটি যদি দুদকের হয় তাহলে আমরা ধারণা করছি দুদক সেখান থেকে হয়তো কেন্দ্র ফি বাদ দিয়েছে। সেজন্য আমরা পুনরায় সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য প্রতিটি বিষয়কে আলাদা আলাদা ভাবে উপস্থাপন করে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছি।’

তপন কুমার সরকার স্পষ্ট করে বলেন: বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ফি এর ১৮০০ টাকা এবং বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ফি ১৬৮০ টাকার ১ টাকাও বেশি নেয়ার কোনো অবকাশ নেই স্কুল কর্তৃপক্ষের।

পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত অভিযোগ ১০৬ নম্বরে আসার পর থেকে ইতোমধ্যে দুদক কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে দুদক। ওই তালিকা নিয়ে শিগগিরই মাঠে নামবে তারা।

এ ধরনের অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার ঘটনায় দুদকের হটলাইন নম্বর ১০৬ এ জানানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করেছে দুদক।
জানা গেছে, রাজধানীর একটি বিদ্যালয়ে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে কমিশন একটি অভিযান পরিচালনা করে। ওই সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কমিশনে এ বিষয়ে অভিযোগ আসতে থাকে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে আসে ওই সব প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি। এর পরপরই দুদক কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন নম্বর ১০৬ এ সকলকে অভিযোগ করার অনুরোধ জানায়।