চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুদককে ‘দুর্নীতিবাজ ক্যান্সার’ ছেঁটে ফেলতে বললেন হাইকোর্ট

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভেতরে কোনো দুর্নীতিবাজ থাকলে, সেসব দুর্নীতিবাজ ‘ক্যান্সারগুলোকে’ ছেঁটে ফেলতে বলেছেন হাইকোর্ট।

‘ভুল আসামি’ হয়ে ২৬ মামলায় প্রায় ৩ বছর কারাগারে থাকা পাটকল শ্রমিক জাহালমের ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার একথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খানকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, ‘দুদকের মধ্যে কোনো দুর্নীতিবাজ থাকলে তাকে বাদ দিন। এই জায়গাটিতে দুর্নীতিবাজ থাকা উচিৎ নয়। আমাদের কথা হচ্ছে, দুদক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করুক।’

হাইকোর্ট আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির এখন স্বর্ণযুগ চলছে। তাই এখন অর্থনৈতিক ক্রাইম হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দুদককে অনেক পাওয়ার দেওয়া হয়েছে। তাই সততা ও স্বচ্ছতার সাথে দুদককে কাজ করতে হবে। দুদক শক্তিশালী না হলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না। আর দুদকের মাঝে দুর্নীতিবাজ থাকলে সেসব দুর্নীতিবাজ ক্যান্সারগুলোকে ছেঁটে ফেলতে হবে।’

হাইকোর্ট তার আদেশে জাহালম কাণ্ডে দুদকের করা অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্ট আগামী ১১ জুলাই আদালতে দাখিল করতে বলেছেন। এবং এ মামলার পরবর্তী শুনানির আগামী ১১ জুলাই দুপুর ২টায় দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

জাহালমের কারাবাসের বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে নিয়ে আসা আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত আজ শুনানিতে অংশ নেন। আর দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। শুনানিতে দুদকের আইনজীবী আদালতকে বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্যে বিভ্রান্ত হয়ে জাহালমের নাম মামলায় এসেছে।

এর আগে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো লোকটির বয়স ৩০-৩২ বছরের বেশি না।  পরনে লুঙ্গি আর শার্ট।  ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এ বিচারকের উদ্দেশে তাকে বারবার বলতে দেখা যায়, ‘‘স্যার, আমি জাহালম।

আমি আবু সালেক না, আমি নির্দোষ।  আবু সালেকের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ২৬টি মামলা হয়েছে।  কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন এই জাহালম।  যিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক। এরপর তদন্ত করে দুদক বলেছে, জাহালম নিরপরাধ। একই মত দেয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।’’

ওই প্রতিবেদনটি গত ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। এরপর হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ জাহালমকে মুক্তির আদেশ দেন। সেই সাথে জাহালমের ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

এ আদেশের পর মুক্তি পায় জাহালম।  এরপর দুদক হাইকোর্টের এ বেঞ্চে রুল শুনানিসহ জাহালম সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। তবে দুদকের এ আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জাহালমকে মুক্তি দেওয়া হাইকোর্ট বেঞ্চেই আজ জাহালমের ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি হয়।

Bellow Post-Green View