চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুটি ভ্যাকসিনের মিশ্রণে কী হয়?

করোনাভাইরাসের দুটি ভ্যাকসিনের ডোজ মিশ্রণ করে প্রয়োগ করে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের রোগীদের দুর্বলতা ও মাথাব্যথার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। 

ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে দুটি ভ্যাকসিন মিশ্রণ করে প্রয়োগ কতটা কার্যকর তা জানার জন্য পরিচালিত একটি গবেষণা থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

বিজ্ঞাপন

যারা প্রথমে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে এবং পরে ফাইজারের ভ্যাকসিন নিয়েছে চার সপ্তাহ পরেও তাদের স্বল্প সময়ের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া বেশি বার দেখা গেছে। যদিও সেসবই মৃদু। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নালে এই তথ্য জানিয়েছেন। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে যখন ফাইজারের পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার ডোজ দেওয়া হয়েছে তখনও।

গবেষক ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা, দুটি ভ্যাকসিন মিশিয়ে প্রয়োগের কৌশলটির পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ অনেক নিম্ন ও মধ্যআয়ের দেশ ভ্যাকসিনের অভাবের সাথে কিভাবে মানিয়ে নেওয়া যাবে তার পথ বের করার চেষ্টা করছে। যদি এভাবে মিক্সম্যাচ করে ভ্যাকসিন দেওয়া যায় তাহলে দেশগুলোর পক্ষে মজুদ পরিচালনা করা সহজ হবে।

ফ্রান্সে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছিলো। পরে সরকার বয়স্কদের জন্য এই ভ্যাকসিন সীমাবদ্ধ করে, তখন তাদের দ্বিতীয় ডোজে ফাইজার অ্যান্ড বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

অক্সফোর্ডের পেডিয়াট্রিকস এবং ভ্যাকসিনোলজির প্রফেসর ম্যাথিউ স্নেপি বলেন, খুবই উদ্বেগজনক অনুসন্ধান, আমরা এমনটা প্রত্যাশা করছিলাম না। গবেষণাটি পরিচালনা করা এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এটা কোনো উন্নত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত কিনা, এখনও তা জানি না। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেই ফলাফলগুলি সন্ধান করব।

কনফারেন্স কলে তিনি বলেন, এই গবেষণায় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং কয়েকদিন পরেই এসব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিলীন হয়ে যায়। যাইহোক, গবেষণার ফলাফল বলছে, মিক্স করা ডোজ নেওয়ার পরে গ্রহীতা কয়েকদিন কাজে অনুপস্থিতি থাকতে পারে, এই যা। সেজন্য একটা ওয়ার্ডের সব নার্সকে আমরা একসাথে এভাবে মিক্সড ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিবো না।

যারা দুটি ডোজের মিশ্রণ নিয়েছে তাদের ১০ শতাংশ তীব্র ক্লান্তির শিকার হয়েছে, আর যারা এক ধরনের ডোজ নিয়েছে তাদের ৩ শতাংশের ক্ষেত্রে এমন হয়েছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া সবার বয়স ৫০ বছরের ওপরে। তাই স্নেপির মতে তরুণদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া আরো তীব্র হতে পারে।

গবেষকরা দুটি ডোজের মধ্যে সময়ের পার্থক্য নিয়েও কাজ করছেন এবং গবেষণায় মডার্না ও নোভাভ্যাক্সকে অন্তর্ভূক্ত করার কথাও ভাবছেন।

সব ভ্যাকসিনের মিশ্রণ করলে একই ধরনের কাজ করবে না, কিন্তু গবেষকদের বিশ্বাস, যেসব ভ্যাকসিনের লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) একই তাদের দিয়ে এমন করা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে সেই লক্ষ্যবস্তুটা হলো ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন। দুটি ডোজের মিশ্রণ করার পদ্ধতিটি হেটারোলোজাস বুস্ট নামে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন