চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুই হাজার বছরের আগের রেস্তোরাঁর সন্ধান

অগ্ন্যুৎপাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইতালির এক সময়ের ব্যস্ততম নগরী পম্পেইতে দুই হাজার বছরের প্রাচীন একটি রেস্তোরাঁর সন্ধান মিলেছে।

শনিবার পম্পেইয়ে প্রত্নতাত্ত্বিকরা রেস্তোরাঁটি আবিষ্কার করেন। তবে এখনই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে না রেস্তোরাঁটি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৯ খ্রিস্টাব্দে ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে পম্পেই নগরীটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। সম্প্রতি এই শহরটি থেকে দুই ব্যক্তির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। তারপর এই খাবারের দোকানটির কথা জানালো পম্পেই প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ।

প্রাচীনকালে রোমান পথচারীরা বিভিন্ন গরম খাবার এবং পানীয় পান করার জন্য যে ধরনের স্ট্রিট ফুড ব্যবহার করতেন, এই রেস্তোরাঁটি সেই ধরনের বলে ধারণা করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

লাতিন ভাষায় টার্মোপলিয়াম বা গরম পানীয়’র এই রেস্তোরাঁটি প্রত্নতাত্ত্বিক পার্ক রেজিও ভি সাইটের ভিতরে আবিষ্কার করা হয়েছে

বিজ্ঞাপন

প্রায় ২ হাজার বছরের পুরাতন এই খাবারের দোকানটিতে দোকানিরা সে সময়ে খাবার গরম রাখার জন্য টেরাকোটার পাত্রগুলো গোলাকার ছিদ্রযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করতো।

সে সময় দোকানের সামনের অংশকে আকর্ষণীয় করার জন্য উজ্জ্বল রংয়ের ফ্রেস্কো (মুরাল পেইন্টিংয়ের একটি কৌশল) এবং যে সব খাবার বিক্রি করা হতো এমন খাবারের চিত্রও ব্যবহার করতো। এছাড়া দোকানিরা ক্রেতাদের খাবারের প্রতি আকর্ষিত করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতো। যেমন- মুরগি বা হাঁসগুলোকে উল্টো করে ঝুঁলিয়ে রাখতো।

এ বিষয়ে পম্পেই প্রত্নতাত্ত্বিক পার্কের পরিচালক মাসিমো ওসানা বলেন, এটি একটি অসাধারণ আবিষ্কার। প্রথমবারের মতো আমরা একটি সম্পূর্ণ টার্মোপোলিয়াম খনন করতে সক্ষম হয়েছি। খননকৃত স্থানটি থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা একটি সুসজ্জিত ব্রোঞ্জের বাটি- যা পাটেরা হিসাবে পরিচিত, কিছু চিনা মাটির পাত্র- যেগুলো স্যুপ, স্টু বা পানীয় তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো এমন অনেক নিদর্শন উদ্ধার করেছেন।

নৃ-বিজ্ঞানী ভ্যালরিয়া আমোরেত্তি বলেন, আমাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে এটা প্রমাণিত যে, এই উন্মোচিত স্থানটি প্রাচীনকালে খাবার ও পানীয় বিক্রির কাজে ব্যবহার করা হতো। খাবার ও পানীয় হিসাবে এখানে ব্যবহৃত পাত্রগুলোতে শূকরের মাংস, মাছ, শামুক এবং গো-মাংসের চিহ্ন পেয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

ইতালির পম্পেই নগরীটি ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত নেপলসের একটি পরিকল্পিত শহর। সেখানে ১৩ হাজার মানুষের বাস ছিল। তারা আগ্নেয়গিরির লাভার নিচে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিলেন।

গ্রিক-রোমান সভ্যতার এক অন্যতম নিদর্শন এই পম্পেই নগরী, যা ইতালির সবচেয়ে জনপ্রিয় আকর্ষণগুলোর মধ্যে একটি। এটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত।