চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুই শিশু: চার রাত শুধুই মায়ের, বাকি সময় দু’জনার

আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চার রাত (৯, ১১, ১৩ ও ১৫ তারিখ) জাপানি মা তার দুই কন্যা শিশুকে নিয়ে ইমরান শরীফের গুলশানের বাসায় থাকবেন। বাকি সময়টা বাবা-মা দুজনেই শিশুদের সাথে থাকতে পারবেন বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

দুই কন্যা শিশুকে নিয়ে বাবা- মা আপাতত ১৫ দিন একসাথে ওই বাসায় থাকতে পারবেন বলে ৩১ আগস্টের দেয়া আদেশ মোডিফিকেশন চেয়ে জাপানি মা নাকানো এরিকোর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদশ দেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আজকের আদেশ অনুযায়ী বাবা- মা দুজনই তাদের শিশুদের নিয়ে বাইরে যেতে এবং কেনাকাটা ও ঘুরাফেরা করতে পারবেন। এছাড়াও ফ্লাটের ভেতরে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরা অপসারণ করে বাসার বাইরে তা স্থাপন করা যাবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে দুই শিশুর মা-বাবাকে নিয়ে প্রচারিত ‘অবমাননাকর ভিডিও’ অপসারণে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়ে ওইসব ভিডিও যারা তৈরি ও প্রচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টারকে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ আদালতে মায়ের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আর বাবার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম

দুই মেয়েকে নিজের জিম্মায় পেতে ঢাকায় এসে গত ১৯ আগস্ট জাপানি নারীর করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। আদালত তার আদেশে দুই মেয়েসহ তাদের বাবা ও ফুপুকে আগামী ৩১ আগস্ট হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেন। ওই দুই মেয়েকে নিয়ে বাবা আগামী ৩০ দিন বিদেশ যেতে পারবেন না বলে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। এরপর দুই মেয়েকে বাবার হেফাজত থেকে সিআইডি উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখে।

এ বিষয়টি গত ২৩ আগস্ট মেয়েদের বাবার পক্ষের আইনজীবী ফাওজিয়া করিম বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ দেন। সেসময়ে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মা ও বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাবা শিশুদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

সে অনুযায়ী বা-মা শিশুদের সাথে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে সময় দেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের আইনজীবী আদালতে এসে জানান শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। তখন আদালত উভয় পক্ষকে বলেন কোথায় থাকলে ভালো হয় সে বিষয়ে সমঝোতা করে সিদ্ধান্ত জানাতে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী গত ৩১ আগস্ট দুই মেয়েসহ তাদের মা-বাবা এবং ফুপু হাইকোর্ট কক্ষে উপস্থিত হন। এরপর দুই পক্ষের আইনজীবীর শুনানি শুরু করেন। এক পর্যায়ে আইনজীবীসহ দুই মেয়ে এবং তাদের মা-বাবা ও ফুপুকে খাস কামরায় ডেকে সবার বক্তব্য শুনেন হাইকোর্ট।

তার আগে শুনানির শুরুতে মায়ের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতকে বলেন, ‘বাচ্চাদের মা ঢাকার বারিধারায় একটি বাসা ভাড়া করেছে। আমরা চাই ওই বাসায় বাচ্চারা মায়ের সাথে থাকুক। বাচ্চাদের বাবাও তার মত করে ওই বাসায় আসুক-থাকুক। কারণ, এইকয়দিনে বাচ্চাদের মধ্যে যে একটা ট্রমা তৈরি হয়েছে তা কাটুক। তারপর আপনারা এবিষয়ে চূড়ান্ত কোন আদেশ দেন।’

তবে বাবার পক্ষের আইনজীবী ফাওজিয়া করিম সেসময় বলেন, ‘মাই লর্ড, বাচ্চারা বাবার বাসায় থাকুন। মা বাচ্চাদের দেখতে আসুক কোন সমস্যা নেই। মা যে বাসাটার কথা বলছে সে এরিয়ায় বাচ্চাদের থাকার বিষয়ে আমাদের আপত্তি আছে।’

শুনানিতে দুপক্ষের এমন দ্বিমুখী অবস্থানে প্রেক্ষাপটে আদালত বলেন, ‘আমরা চাই বাচ্চা দুটি পারিবারিক পরিবেশে থাকুক। আপনারা একটু পজিটিভলি ভাবুন।’

এরপর বাবার পক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, মাই লর্ড আমরা তাহলে আবার দু-পক্ষ একটু বসে সিদ্ধান্ত নেই। তারপর আপনাকে জানাই। আপনি তখন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এরপর আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য বেলা ওইদিন বেলা ৩টায় শুনানির সময় নির্ধারণ করেন।

এরপর ৩টায় আবার শুনানি হলে দুই পক্ষের প্রস্তাবের ভিত্তিতে হাইকোর্ট আদেশ দেন। ইমরান শরীফের গুলশানের ভাড়া বাসায় দুই শিশুকে নিয়ে বাবা- মা আপাতত ১৫ দিন একসাথে থাকতে পারবেন বলে ওইদিন আদেশ দেন হাইকোর্ট। সেই সাথে ঢাকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালককে এদের পারিবারিক পরিবেশের বিষয়টি দেখভাল করেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। আর ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দুই শিশু ও তাদের মা-বাবার যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়।

১৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য রেখে হাইকোর্ট সেদিন বলেন, ‘বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। আর কোনো পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ উঠলে প্রয়োজনে সে বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা হবে।’