চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুই শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করলেন ছাত্রলীগ নেতা

আর্থিক অনটনের কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও স্বপ্ন পূরণ করতে পারছিলেন না দুই মেধাবী শিক্ষার্থী মজমুল ইসলাম আপন ও হাফেজ সওদাগর। উচ্চশিক্ষা তাদের কাছে প্রায় অধরাই থেকে যাচ্ছিল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি এহসান মাহফুজ। তার সহায়তায় আপন আইন বিভাগে ও হফেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, মজমুল ইসলাম আপন রংপুর জেলার কোতায়ালি থানার মটুকপুর গ্র্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। অভাবের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করতে পারেননি। এমনকি ভর্তি পরীক্ষার ফরম তোলার টাকাও ছিলো না।

তার মা বাড়ির একটি ভেড়া বিক্রি করে ফরম তুলে দেন। পরিবারের শেষ সম্বল বলতে, ভিটেমাটি আর কয়েককটি ভেড়া। বাবা বর্গাচাষি ছিলেন। কিন্তু বার্ধ্যক্যের কারণে বর্তমানে কাজ করতে পারেন না। নিজের প্রচেষ্টায় আপন এ বছর রাবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ২৩০ তম, ‘বি’ ইউনিটে ১৮২তম এবং ‘ই’ ইউনিটে ৩২তম হয়েছে।

অার হাফেজ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া গ্রামের হরমুজ সওদাগরের দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে হাফেজ তৃতীয়। সে স্থানীয় কালিয়া কান্দাপাড়া উচ্চ-বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং এইচএসসি পরীক্ষাতেও সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করে। এ বছর রাবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ২৩৭তম ও ‘ই’ ইউনিটে ৩০২তম স্থান অর্জন করেছে সে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেও স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল আর্থিক অনটন। তবে হাফেজের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে এবং আপনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তা এহসান মাহফুজের নজরে আসে। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ভর্তি সকল ব্যবস্থা করে দেন তিনি।

জানতে চাইলে এহসান মাহফুজ বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর তাদরে সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য বলি। আপন ও হাফেজ ক্যাম্পাসে আসলে আজ (সোমবার) তাদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে দিয়েছি। এ ছাড়াও তাদের ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও করে দেবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপন ও হাফেজের মত অদম্য মেধাবীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। একটু সহযোগিতা পেলেই তারা অনেক দূর এগিয়ে যাবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ এসব অদম্য মেধাবীদের সহযোগিতায় সবার এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে দাবি করে আপন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে যে টাকা লাগবে তা আমার পরিবারের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব ছিল না। এহসান ভাই আমার ভর্তি সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে হাফেজ বলেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই। তিনি অনেক ভালো মানুষ। ভাই আমার পাঁশে না দাঁড়ালে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হতো না। শুধুমাত্র ভর্তি হওয়ার ব্যবস্থায় করেননি একই সাথে তিনি আমার পড়ালেখাসহ যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন