চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুই বাংলাদেশিকে ২ কোটি টাকা দিতে ইতিহাদকে নির্দেশ

৯ বছর আগে আবুধাবিতে তাদের আটক করে হয়রানি করা হয়েছিল

বাংলাদেশি দুই যাত্রীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি এয়ারপোর্টে আটক ও হয়রানিসহ গন্তব্যস্থল কানাডায় না নিয়ে ঢাকায় ফেরত পাঠানোয় ইতিহাদ এয়ারওয়েজকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আদালত আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই যাত্রীর প্রত্যেককে এক কোটি করে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ক্ষতিপূরনের আদেশ পাওয়া বাংলাদেশি দুই যাত্রী হলেন তানজিন বৃষ্টি ও নাহিদ সুলতানা যুঁথি।

আদালতের রিটের পক্ষে শুনানি করে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ইতিহাদ এয়ারওয়েজের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজমালুল হেসেন কিউসি। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ায়েশ আল হারুনি।

আদালত রায়ে বলেন, ‘বাংলাদেশি যাত্রী দুই নারীকে আবুধাবি এয়ারপোর্টে যে ধরনের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে তা অর্থদণ্ডে পরিমাপ করা যায় না।’

বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যতে কোনো যাত্রীর সাথে এরকম আচরণ যাতে না করা হয়, সে বিষয়েও ইতিহাদ এয়ারওয়েজকে সতর্ক করেছেন আদালত।

২০১১ সালের ২৮ জুন আবুধাবি এয়ারপোর্টে বাংলাদেশি ওই দুই যাত্রিকে আটক করে তাদের হয়রানি করা হয়। ওই ঘটনার ইতিহাদ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন যাত্রী তানজিন বৃষ্টি।

সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ওই বছরের ১৪ জুলাই রুলসহ আদেশ দেয়। আদেশে আদালত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেই সাথে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের কান্ট্রি ম্যানেজারকে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

একই সঙ্গে আটক, হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ বিচারের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করার জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং এ দুই যাত্রীকে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

পরবর্তীতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের কান্ট্রি ম্যানেজার হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার পর মামলার রুল শুনানি শুরু হলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি শুনানিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরে প্রধান বিচারপতি রুল শুনানির বিষয়টি বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান।