চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুই দশক আগের রাতে চোখ ম্যানইউর, তৈরি বার্সেলোনাও

প্রতিপক্ষই শুধু আলাদা ছিল সেদিন। মাঠ একই। সেটাও ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বেঞ্চে ২০ বছর আগের সেই রাতে ম্যানেজার হিসেবে ছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। আর মাঠে তার সুপার-সাব ওলে গানার সোলশেয়ার।

মঙ্গলবার রাতে ম্যানইউ যখন মাঠে নামবে তখন ডাগআউটে থাকবেন সোলশেয়ার। আর ফার্গি? তিনিও থাকছেন এদিন ন্যু ক্যাম্পে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে বেঞ্চে হয়তো বসবেন না, কিন্তু দলের সঙ্গেই তিনি সোমবার উড়ে গেছেন বার্সেলোনায়।

বিজ্ঞাপন

১৯৯৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ছিল উয়েফা সেরার আসরে ফাইনালের সেরা কামব্যাক করার গল্প। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ০-১ পিছিয়ে থাকা ম্যানইউ’র হয়ে ইনজুরি টাইমে দুটি গোল করেছিলেন টেডি শেরিংহ্যাম ও সোলশেয়ার।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে অন্যতম নাটকীয় সেই রাতই কি সোলশেয়ার এবার ফেরাতে চান কোচ হিসেবে? প্রথম লেগের ম্যাচে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ১-০তে জিতেছে বার্সেলোনা। লুক শ’র সেই আত্মঘাতী গোলই দুই দলের পার্থক্য। শেষ ষোলোতেও ম্যানইউ প্রথম লেগ হেরেছিল পিএসজির কাছে। তারপর প্যারিসে গিয়ে পিএসজিকে হারায় তারা। ন্যু ক্যাম্পে সেরকমই কামব্যাকের স্বপ্ন দেখছেন ইউনাইটেড সমর্থকরা।

ম্যাচের আগে সোলশেয়ার বলেছেন, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি না। কিন্তু এটা মনে করি যে, যার যেটা প্রাপ্য সে ঠিক সেটা পাবে। আমি উত্তেজিত এরকম একটা বড় মঞ্চে খেলার আগে। আর বার্সেলোনা গত ১০ বা ১৫ বছরের সেরা দল। পেপ গার্দিওলা তাদের কোচ হওয়ার পর দুর্দান্ত হয়ে গিয়েছিল।’

বিজ্ঞাপন

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হিসেব বলছে, বার্সেলোনার দাপট তেমন কমেনি। এটা ঠিক যে ২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বার্সেলোনা শেষ চারে পৌঁছাতে পারেনি, কিন্তু ঘরের মাঠে শেষ ৩০ ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য। ২৭টা জয়, তিনটা ড্র। গত ছয় বছরে নিজেদের মাঠে হারেনি বার্সেলোনা। শেষবার ২০১৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখ জিতেছিল তাদের মাঠে। মাঝের এই ৩০ ম্যাচে মেসি-সুয়ারেজরা ৯৩টা গোল করেছেন। আর হজম করেছেন মাত্র ১৫টা।

ম্যানইউ কোচ তাই জানেন তার চ্যালেঞ্জ কত কঠিন। তাছাড়া ইউনাইটেডও চারবারের সুযোগে একবারও ন্যু ক্যাম্পে হারাতে পারেনি বার্সেলোনাকে।

তবে তার দল যে ফুটছে, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে ফুটবলারদের কথায়। মার্কাশ র‍্যাশফোর্ড সরাসরি বলেছেন, ‘আমরা জানি, দ্বিতীয় লেগে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে যেতে হবে আর কাজটা সম্পূর্ণ করে আসতে হবে।’

এজন্য জন্য কী করতে হবে, সেটাও ব্যাখ্যা করেছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড, ‘আমাদের দল হিসেবে খেলতে হবে। যখন আমাদের পায়ে বল থাকবে না, তখন সবাই মিলে প্রেস করতে হবে। আর আমাদের পায়ে বল থাকলে সবাই মিলে অ্যাটাক করতে হবে।’

আগের ম্যাচে ক্রিস স্মালিংয়ের গুঁতোয় নাক দিয়ে রক্ত ঝরলেও এখন ফিট মেসি। মাঝের লা লিগার ম্যাচে বিশ্রাম পেয়েছেন। সুয়ারেজ-ডেম্বেলেকে নিয়ে তৈরি বার্সেলোনাও।