চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুই ইন্দোনেশিয়ান জেলের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেয়ার ঘটনায় তোলপাড়

দুই যুবকের দেহ নির্মমভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গন নড়েচড়ে উঠেছে। ভিডিওটির কারণে চীনা নৌযানগুলোতে ইন্দোনেশিয়ান জেলেদের সঙ্গে দাসসুলভ আচরণের উপর আবারও আলো পড়েছে।

গল্পটা শুধু দুই পরিবারের। তাদের একজন ভাই এবং অন্যজন ছেলের মৃত্যুর শোক পালন করছে। সেপরি নামের ছেলেটি আগে কখনো সমুদ্রে যায়নি। বন্ধুর মাধ্যমে চীনাদের মাছ ধরার নৌকায় কাজ করার সুযোগ পেয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করে সে। টাকার পরিমাণের কথা শুনে আর কোনো কিছু চিন্তুা না করেই ২৫ বছর বয়সী ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ সুমাত্রার এই যুবক কাজে চলে যায়।

বিজ্ঞাপন

তার বোন রিকা আন্দ্রি প্রাতামা বলেন, সে এত বড় টাকার পরিমাণ শুনে খুবই আশাবাদী ছিলো। মাসে ৪০০ মার্কিন ডলার।গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাই আরো ২২ জন ইন্দোনেশিয়ানের সঙ্গে লং শিং ৬২৯ মাছ ধরার জাহাজে পাড়ি জমায় সে। যাওয়ার আগে আমার কাছ থেকেও কিছু টাকা নিয়েছিলো সে।

কিন্তু আর ফিরে আসেনি সেপরি। কোনো টাকাও পাঠাতে পারেনি। এরপরে রিকা তার ভাইয়ের সঙ্গেও কথা বলতে পারেনি আর।

বিজ্ঞাপন

পরে গত জানুয়ারিতে রিকা একটি চিঠি পান। সেখানে জানানো হয় তার ভাই সমু্দ্রে মৃত্যুবরণ করেছে। তার মৃতদেহ জাহাজ থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

সেপরির গ্রামেরই আরেকজন আরিও এই বছরের মার্চে মারা যান। তারপরই অ্ন্যান্যদের উদ্ধার করা হয়। ওই যানেই মারা যায় আরো দুজন ইন্দোনেশিয়ান ক্রু। তার সবার মরদেহ কাপড়ে পেঁচিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। সেপরির মতো কারো পরিবারই তাদের শেষবারের মতো বিদায়ও জানাতে পারেনি।

অন্যান্য ক্রুরা জানিয়েছে, এসব যানে তাদের প্রায়ই মারধর করা হয়। চীনা বসরা কি বলছেন তা বুঝতে পারেন না জেলেরা। ফলে দ্বিধা ও হতাশা তৈরি হয়।

কখনো কখনো তাদের ১৮ ঘণ্টা কাজ করিয়ে মাছের টোপ খেতে দেওয়া হয়। চীনা নাবিকেরা মিনারেল পানি পান করে তার জেলেদের ছেঁকে নেওয়া সমুদ্রের পানি খেতে দেওয়া হয়।

এভাবেই হয়তো আরো কিছু মৃত্যু অদেখাই থেকে যেত। যদি না কেউ একজন দুই যুবকের মরদেহ সমুদ্রে ফেলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতো এবং আলোতে নিয়ে আসতো। এই ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ায় অনেক সোরগোল পড়ে গেছে। নিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা ও বিদেশী যানে জেলেদের শোষণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে তারা।