চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দীর্ঘ অনিশ্চয়তায় শিক্ষাজীবন

করেনা মহামারি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হওয়ার সময় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে পৃথিবীর দেশে দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ধীরে ধীরে কিছু দেশে খুলে দেয়া হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিছু দেশ বিভিন্নভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে টানা ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর আবার বন্ধ দীর্ঘায়িত করা হলো।

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার চলমান ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দেশে করোনা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় এবং কঠোর লকডাউন কার্যকর থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় এবং কোভিড ১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সাথে পরামর্শক্রমে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসাসমূহের চলমান ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট ২০২১ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে ১৩ জুন দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল। এর ফলে টানা প্রায় ১৫ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে আসলে তবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, অন্যথায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া ঠিক হবে না। শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন: আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। সরকারের যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সদিচ্ছা আছে তা শিক্ষক-কর্মচারিদের টিকা নেয়ার আহবানে বোঝা যায়। আগামী ১১ অগাস্টের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে হবে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। সর্বশেষ জুনে স্কুল-কলেজে সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রম চালুর যে পরিকল্পনা নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাও ভেস্তে গেছে।

সভ্যতার চলমান ইতিহাসে এত দীর্ঘদিন শিক্ষাজীবনের দৈনন্দিনতা বন্ধ থাকেনি কোনও কালে। কিন্তু করোনা মহামারি মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আঘাতটি করেছে এই একটি জায়গায়। আমরা মনে করি সরকার দেশের ভবিষ্যত চিন্তা করে দ্রুতই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেবে। নতুবা দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম নিজেরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার চেয়েও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ। মেধাশূন্য একটি বিকৃত জনগোষ্ঠি নিয়ে তখন আমাদের হারিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।