চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘দিল্লি চলো’ আন্দোলনে আরো ৬ রাজ্যের কৃষক

ভারতে চলমান দিল্লি চলো আন্দোলনে হরিয়ানা ও পাঞ্জাবর কৃষকদের সমর্থনে এবার যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের কৃষকরা। এর আগে যুক্ত হয় মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্র প্রদেশের কৃষকরা।

হিন্দুস্থান টাইমস বলছে, শুক্রবারের আন্দোনলনে এসব রাজ্যের কৃষকরা যোগদান করে আন্দোলনকে বেগবান করে তোলে। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে তাদের এই আন্দোলন। দলে দলে এসব প্রদেশের কৃষকরা দিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ ছয়টি রাজ্য থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে দিল্লি প্রবেশের চেষ্টা করে বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। পথে পথে মিছিলে উত্তাল রাজপথ।  রাজ্য থেকে বের হতে গিয়ে ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। শীত উপেক্ষা করেই ‘কৃষি আইন’ বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে জড়ো হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

কৃষক-শ্রমিকদের ঠেকাতে দিল্লির প্রবেশ দ্বারে বিপুল নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তের সোনিপত ও ঝাজ্জরে কয়েক ঘণ্টা ধরে কৃষকদের মিছিলে বাধা দিতে জলকামান ছুড়ে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েও বিক্ষুব্ধদের রুখতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। শেষে বিকেলে বাধ্য হয়েই হরিয়ানা-পঞ্জাবের কৃষকদের দিল্লি প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া হয়। আপাতত তারা উত্তর দিল্লি শহরতলির বুরারিতে নিরংকারী সমাগম মাঠে অবস্থান করছেন।

গতকাল উত্তর প্রদেশের কমপক্ষে ১২টি জেলায় কেন্দ্রের তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন কৃষকরা। তার জেরে রাজ্যের প্রধান সড়কগুলিতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শনিবার দিল্লির উদ্দেশে ট্র্যাক্টর-সহ প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন কৃষক সংগঠনের নেতারা।

বিজ্ঞাপন

একই দিনে পঞ্জাব ও হরিয়ানার প্রতিবাদী কৃষকদের বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি প্রবেশের পথে পুলিশের বাধা পেলে আগ্রায় তিন নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন মধ্য প্রদেশের বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।

দিল্লির বিক্ষোভ অবস্থানে যোগ দেওয়ার জন্য রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগর, হনুমানগড় ও শিকার জেলার কৃষকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছে অখিল ভারত কিষাণ সভার সদস্যরা।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমরা রাম বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দিল্ল চলো আন্দোলনে যোগ দেবেন রাজস্থানের কৃষকরা। শুক্রবার রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আমরা সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিবাদ প্রদর্শন করেছি।

কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ আন্দোলন ক্রমশই কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করছে। কংগ্রেসের অনেক নেতাকর্মীও এই বিক্ষোভে যোগ দেয়ার খবর জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।

নতুন আই আইনের মাধ্যমে কৃষিপণ্য বিক্রয়, মূল্য নির্ধারণ ও গুদামজাত করণের নিয়মে পরিবর্তন আসবে। যে নিয়ম ভারতের কৃষকদের গত কয়েক দশক ধরে মুক্ত বাজার থেকে রক্ষা করেছে। কৃষকরা চাইলে যে কারও কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবে। আগে যা কেবলমাত্র সরকার অনুমোদিত এজেন্টদের কাছেই বিক্রি করতে হতো।

বড় পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে-  কৃষকরা তাদের পণ্য বাজার মূল্যে কৃষি ব্যবসায়ী, সুপারমার্কেট চেইন এবং অনলাইন ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করার অনুমতি পাবে। বর্তমানে বেশিরভাগ ভারতীয় কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য সরকার নিয়ন্ত্রিত পাইকারি বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি করে থাকেন। এই বাজারগুলো কৃষকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সাধারণত এসব কমিটিতে বেশি জমির মালিক ও ব্যবসায়ী বা ‘কমিশন এজেন্ট’রা থাকেন। এই এজেন্টরা পণ্য গুদামজাত, অর্থায়ন এবং পরিবহনের দায়িত্বে থাকে। নতুন কৃষি আইনের মাধ্যমে কৃষকরা চাইলেই তাদের পণ্য সরাসরি নিজেরাই নিজেদের পছন্দমত ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

কৃষিখাত সংস্কারে কেন্দ্রীয় সরকারের এই কৃষি আইনকে ‘কৃষকদের মৃত্যু পরোয়ানা’ আখ্যা দিয়েছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল কংগ্রেস।