চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দিল্লিতে টাকার বিনিময়ে নির্মল বাতাস

প্রবল বায়ু দূষণে আক্রান্ত দিল্লিবাসী! দিন দিন শহরটি যেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। শ্বাস-প্রশ্বাসের তীব্র সংকটে নাজেহাল অবস্থা। সম্প্রতি এক জরিপে বিশ্বের সর্বাধিক দূষিত শহরের তালিকায় প্রথমে ঠাঁই হয়েছে ভারতের এই রাজধানী শহরের নাম।

সেখানে মাস্ক ছাড়া পথে বেরনোই দায়। দূষণ ঠেকাতে গাড়ির জোড়-বিজোড় নীতি চালু করেও খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেননি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এমনই এক কঠিন পরিস্থিতিতে সেখানে চালু করা হলো অক্সিজেন বার। চলতি বছরের মে মাসে এটি চালু হয়।

অনেকেই পথ চলতে অক্সিজেনের অভাববোধ করেন। স্বচ্ছ বাতাস পান না তারা। ফলে বারে গিয়ে নাকে নল লাগিয়ে অক্সিজেন টানছেন দিল্লিবাসী। এই বারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অক্সি পিয়োর’।

দিল্লিতে এই ধরনের অক্সিজেন বার এই প্রথম বলে জানিয়েছেন স্টোর অপারেটর অজয় জনসন। একাধিক সুগন্ধে (লেমনগ্রাস, অরেঞ্জ, সিনামোন, স্পিয়ারমিন্ট, পেপারমিন্ট, ইউক্যালিপটাস এবং ল্যাভেন্ডার) এখানে অক্সিজেন পাওয়া যাচ্ছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, এই বার প্রতিষ্ঠা করেছেন আর্যবীর কুমার এবং মার্গারিটা কুর্তসিয়ানা। এখানে ১৫ মিনিটে ৮০-৯০ ভাগ বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। যার দাম শুরু হয় ২৯৯ রুপি থেকে।

এখানে গ্রাহকদের একটি অনুনাসিক ক্যানুলা দেওয়া হয়। এরপর একটি হালকা ওজনের নল, যা পরিপূরক অক্সিজেন গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত হয়। ডিভাইসটি গ্রাহকের নাকের নলের কাছে রাখা হয়, যার মাধ্যমে তাদের সুগন্ধযুক্ত অক্সিজেনে শ্বাস নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মনজুল মেহতা নামের একজন গ্রাহক বলেন, “আমি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখলাম সেখানে বিশুদ্ধ অক্সিজেন দিচ্ছে। ভাবলাম দেখি আমিও। আমি লেমন গন্ধের অক্সিজেন নিলাম। এটা সতেজ ছিলো।’’

অঞ্জনা নামের আরেকজন গ্রাহক বলেন, বাইরে দূষণের মাত্রা খুবই মারাত্মক। তাই বাধ্য হয়ে আমরা এখানে অক্সিজেন নিতে আসি।

বারের জ্যেষ্ঠ বিক্রয় সহকারী বনি আইরেংবাম বলেন, গ্রাহকরা এই বারকে ইতিবাচকভাবে সাড়া দিচ্ছেন।  যারা প্রথমবার চেষ্টা করেন তারা এটিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন এবং সতেজবোধ করবেন। তবে যারা নিয়মিত করেন তারা সুগন্ধের আসল উপকার পাবেন।

‘‘দিনে ১০ থেকে ১৫ জন এখানে অক্সিজেন নিতে আসছেন। এছাড়া ছোট পোর্টেবল অক্সিজেন ক্যানও পাওয়া যাচ্ছে এখানে। যা সব সময় সঙ্গে নিয়ে ঘোরা যায় এবং যে কোনও জায়গায় ব্যবহার করা যায়।’’

কর্তৃপক্ষ জানায়, যদিও আমাদের নিয়মিত গ্রাহক আছে। তবুও আমরা ব্যাক-টু-ব্যাক অক্সিজেন নিতে উৎসাহিত করি না। কারণ দেহে অক্সিজেনের মাত্রা বেশি হলে একজন ব্যক্তিকে চঞ্চল করে তুলতে পারে। এটি মাসে একবার বা দুবার নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ ডা. রাজেশ চাওলা বলেন, এই জাতীয় বিষয়ে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থাকলেও এটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান নয়।

তিনি বলছেন, ধারণাটি নিঁখুতভাবে একটি পুঁজিবাদী পদক্ষেপ।

বার চালু করার প্রথম দিককার কথা স্মরণ করে আইরেংবাম স্বীকার করেন যে, লোকজন প্রথম দিকে সন্দেহজনক দৃষ্টিতে দেখতেন। অনেকে সমালোচনা করে বলছিলেন যে, আমরা বায়ু বিক্রি করছি। অনেকে অক্সিজেন নিতে ভয় পেতেন। তবে এখন স্বাভাবিক অবস্থায় আসছে। দীপাবলির দুই তিন দিন পর থেকে বারে গ্রাহকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ দূষণের মাত্রা বেশি ছিলো। তারা এর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছে।

শেয়ার করুন: