চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দিনে ঘুম পায় না তো?

রাতে ঘুম কম হলে মাঝে মাঝে দিনে ঘুম পেতেই পারে। কিন্তু প্রতিদিনই একই সমস্যা। অফিসে গেলেই ঘুম পায়। বাড়িতে থাকলেও সারাদিন ঘুম পায়। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমালেও দিনের বেলা ঝিমুনি আসে। যদি এমন সমস্যা আপনার নিত্য সঙ্গী হয়ে থাকে, তাহলে আপনি আলঝেইমার রোগের ঝুঁকিতে আছেন।

জোনস হপকিংস ইউনিভার্সিটির একটি রিসার্চে দেখা গেছে যে, যাদের সারাদিন ঘুম পায়, তাদের মস্তিষ্কে এক বছরে অন্যদের তুলনায় তিনগুণ বেশি বিটা-এমিলয়েড প্রোটিন তৈরি হয়। বেটা এমিলয়েড প্রোটিনের কারণে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

আলঝেইমার
যাদের সারাদিন ঘুম পায়, তারা অন্যদের তুলনায় ২.৭৫ গুন বেশি আলঝেইমার রোগের ঝুঁকিতে আছেন।

বিজ্ঞাপন

এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদী রিসার্চ। ১৯৫৮ সাল থেকে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবী এই রিসার্চে অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের বয়স বাড়ার বিভিন্ন সময়ে তারা কতক্ষণ ঘুমিয়েছেন, ঘুম ঘুম ভাব ছিল কিনা, দিনে ঘুমিয়েছেন কিনা, ইত্যাদি জরিপ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৬ বছর জরিপ চালানোর পরে মস্তিষ্কে জমে যাওয়া বিটা-এমিলয়েডের পরিমাণ জানার জন্য অনেকের ব্রেইন স্ক্যানও করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া এবং ব্রেইন স্ক্যান করা ১২৩ জন অংশগ্রহণকারীকে চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। দেখা গেছে, যাদের সারাদিন ঘুম পায়, তারা অন্যদের তুলনায় ২.৭৫ গুন বেশি আলঝেইমার রোগের ঝুঁকিতে আছেন।

দিনের বেলা ঘুম পাওয়ার সঙ্গে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন গবেষকরা। রাতে ঘুম কম হলে কিংবা দিনের বেলা ঝিমুনি পেলে মস্তিষ্কে বিটা-এমিলয়েড তৈরি হয়। বিটা-এমিলয়েড এর কারণে ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়। এই প্রোটিনই আলজেইমারস রোগের স্থায়ী প্ল্যাক গঠন করে বলে জানিয়েছেন প্রধান গবেষক এবং জোনস হপকিংস ইউনিভার্সিটির মেন্টাল হেলথ বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অ্যাডাম পি. স্পিরা।

আগের রাতে ঘুম কম হলে পরের দিন ঘুম পেতেই পারে। কিন্তু প্রতিদিনই যদি ঘুম ঘুম ভাব থাকে, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। কারণ, বিষয়টি অবহেলা করলে ভবিষ্যতে মস্তিষ্কে বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। রিডার্স ডাইজেস্ট