চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দিনশেষে প্রমাণিত, আমি সত্য ও সঠিক ছিলাম: শাকিব খান

মুখোমুখি শাকিব খান:

চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালকদের মতে শাকিব খান আশার বাতিঘর, সফলতার প্রতীক। দেশ-বিদেশের কোটি কোটি দর্শকের ভালোবাসার নাম। দুই দশকের ক্যারিয়ারে ১৩ বছর ধরে ‘কিং খান’ হয়ে কিং এর মতো চলচ্চিত্রে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। শত প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে, দর্শক ভালোবাসার শক্তিতে এগিয়ে চলছেন বীরদর্পে। ঈদের মতো বড় উৎসবে একাধিক ছবি নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে হাজির হওয়া শাকিবের কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। তবে ছোটপর্দায় তার শতাধিক সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে। করোনার কারণে এ বছর ঢালিউডের দুই ঈদ সিনেমা শূন্য গেল। দেশের সিনেমার সবচেয়ে ব্যস্ততম ও জনপ্রিয়তম তারকা করোনার এই ৪ মাস কী করলেন, চলচ্চিত্র নিয়ে কী পরিকল্পনা করলেন এসব জানার চেষ্টায় শাকিব খানের সঙ্গে কথা বলেছে চ্যানেল আই অনলাইন…

পৃথিবীর অনেক স্টার-সুপারস্টাররা করোনায় কী অবস্থায় আছেন, ফেসবুক-টুইটার-ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ভক্ত অনুরাগীরা তা জানতে পেরেছেন। অথচ করোনার শুরু থেকে (গত ৪ মাস) আপনি কী অবস্থায় আছেন, তার কোনো আপডেট কেউ কিছুই জানে না। কেন? 

বরাবরই আমার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সবসময়ই ব্যক্তিগতই রাখার চেষ্টা করি। কখনো সামনে আনতে চাই না। প্রথমদিকে তো ঘর থেকেই বেরই হইনি। শেষ কিছুদিন একেবারে ইমার্জেন্সি কাজ ছাড়া বের হইনি। তবে গত ৪ মাসে নিজের সঙ্গে নিজে সবচেয়ে বেশি কথা বলেছি। এতো কথা বলেছি যে, এই ইন্টার্ভিউতে সবকিছু তুলে ধরা সম্ভব নয়। এতকিছু ভাবার বা নিজের সঙ্গে নিজের কাটানোর জন্য এতো লম্বা সময় আগে কোনোদিনই পাইনি। প্যান্ডামিক শুরুর কিছুদিন পর থেকে ভাবনা আসে, নিজের ভুল এবং সঠিক কাজগুলো নিয়ে ভাববার।

সেই ভাবনার কিছু অংশ জানতে চাই?

অন্য সবার মতো আমিও রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। আমারও আবেগ আছে, অনুভূতি কাজ করে। এই জীবনে আমারও হয়তো কিছু ভুল হয়েছে। কিছু কিছু ভুল ইমোশনালি হয়েছে। তবে আমি কোনোদিনই ক্রাইম করিনি। আমার উদ্দেশ্য সবসময় সৎ ছিল। দিনশেষে প্রমাণিত আমিই সত্য-সঠিক ছিলাম। কাজের ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ ও কোটি কোটি মানুষের দোয়া-ভালোবাসা আমাকে বিপদমুক্ত করেছে। আগের মতো এখনও আমারই দিন। এতোগুলো বছর কাজের মধ্যে ডুবে ছিলাম। এসব ভাবনা পেইন কখনই আমাকে ছুঁতে পারেনি।

সিনেমা নিয়ে কী ভাবলেন?

সিনেমা নতুন করে রিস্টার্ট হবে। গত চারমাসে কমপক্ষে ২০টি সিনেমার চিত্রনাট্য পড়েছি। দেশ ও দেশের বাইরে পরিচালক-প্রযোজকদের সঙ্গে একাধিকবার অনলাইনে মিটিং করেছি। বিশেষ করে দেশের বাইরের কিছু সিনেমা হবে, তাে বড় পরিকল্পনা করেছি। অনেকগুলো ভালো ভালো কাজ হবে। সময় হলে সবাই জানতে পারবে। কথা নয়, কাজ করেই দেখাবো। সুস্থভাবে বেঁচে থাকলে বাংলা সিনেমাকে হারিয়ে যেতে দেব না। প্যান্ডামিক না হলে এতদিনে চলচ্চিত্র আবার নতুন করে জেগে উঠতো। ইন্ডাস্ট্রির সবার কথা ভেবে, চলচ্চিত্রের ভালোর কথা ভেবে আবার যৌথ প্রযোজনায় কাজ হবে ইনশাআল্লাহ। মানুষ এসব সিনেমা বেশি দেখতে চায়। কীভাবে কি করতে হবে এতোদিন বসে থেকে এসব প্ল্যান করে রেখেছি। যৌথ প্রযোজনার সিনেমা যেহেতু সবার দাবি, আবার বেশি বেশি যৌথ প্রযোজনায় কাজ হবে। আরও বেশি নান্দনিক ও গ্লামারস কাজ হবে। এছাড়া ঘোষণা দেওয়া মালেক আফসারীর ‘হ্যাকার’, বদিউল আলম খোকনের ‘ফাইটার’, হিমেল আশরাফের ‘প্রিয়তমা’ এবং হাসিবুর রেজা কল্লোলের ‘কবি’ প্রত্যেকটা সিনেমাই ভালোভাবে হবে। কোন সিনেমা দিয়ে শুটিংয়ে ফিরবো সেটা চমক হিসেবেই রাখলাম।

করোনার চলচ্চিত্রের যে ক্ষতি হলো তার উত্তরণ কীভাবে সম্ভব?

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য। যারা নিয়মিত সিনেমা বানায় তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে। তাহলেই চলচ্চিত্র আবার ঘুরে দাঁড়াবে। ৫-১০ কেজি করে চাল-ডালের সহয়তা আর কতো? ৯৫ শতাংশ মানুষই কাজ করে খেতে চায়। চলচ্চিত্রের অনেকে অভাবে থেকে সম্মানের ভয়ে প্রকাশ্যে এসে ত্রাণ নিচ্ছে না। কম উপাজর্ন হলেও তারা ত্রাণের বদলে কাজ করে বাঁচতে চায়, সম্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে থাকতে চায়। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারকে এগিয়ে আসতেই হবে। অন্তত দুই বছর পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবেই। তাহলেই সংকট উত্তরণ সম্ভব।

অধিকাংশ সিঙ্গেল স্ক্রিনের (সিনেমা হল) ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত! আগামীতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন?

সিনেমা হল কোনোদিন বন্ধ হবে না। সময় উপযোগী, মানসম্মত সিনেমা দিতে পারলে বন্ধ হল আবার খুলে যাবে। আর অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দিনে দিনে একটা ভালো জায়গায় যাচ্ছে। কারণ এগুলো যুগের চাহিদা। দেশের বাইরে সুপারস্টাররা এ মাধ্যম টার্গেট করে কাজ করছেন। আমি নিজেও হয়তো কাজ করবো। অনেক বড় বাজেটের সিনেমা নিয়ে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। প্যান্ডামিক যাওয়ার পরে ইনশাল্লাহ আবার দৌড় শুরু হবে। লেটস সি…

ঈদের দিনের পরিকল্পনা কী?

প্রতিবার ঈদের দিন গোপনে হলে হলে গিয়ে সিনেমার খোঁজ খবর নিতাম। এবার করোনার কারণে তা হচ্ছে না। তাই বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। বাসাতেই থাকবো।

শেয়ার করুন: