চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে

দেশে করোনাভাইরাস আবার নতুন করে তার তেজ দেখাচ্ছে। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে যদিও এধরণের পরিস্থিতি সহজেই অনুমান করা যাচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৩৫৯ জন, আর মৃত্যুবরণ করেছে ১২ জন। শনাক্তের হার শনাক্তের হার ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ।

করোনা প্রতিরোধে সারাদেশে জারি হওয়া ১১ দফা বিধিনিষেধের মধ্যে আজ থেকে সামান্যই কার্যকর হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাস্তাঘাট, দোকানপাটে জনমানুষের ভীড় আগের মতোই। মাস্ক পরার বিষয়েও সতর্ক নয় সাধারণ মানুষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শপিংমলসহ সব প্রতিষ্ঠান চালু রেখে এই বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

১১ দফা বিধি-নিষেধের কিছু পয়েন্ট এমন যে, তা বাস্তবিক জীবনে কার্যকর করা বা তা পরীক্ষা করা প্রায় দুঃসাধ্য। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিধি-নিষেধ সঠিক সময়েই দেয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করি। সরকার ও প্রশাসনের উচিত দেশের সর্বস্তরে যতটা সম্ভব তা বাস্তবায়ন করা।

বিজ্ঞাপন

সম্ভাব্য লকডাউন বিষয়ে নানা অপতথ্য ও গুজব বিদ্যমান। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনে রয়েছে নানা শঙ্কা। যদিও সর্বশেষ তথ্যানুসারে এখনই সরকার লকডাউনের মতো চূড়ান্ত ও কঠোর পথে হাঁটবে না বলে জানা গেছে।

গত কয়েকদিন হলো বিশ্বে একটি খবর বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়েছে। ভারতীয় একজন সিনিয়র চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘ওমিক্রনকে থামানো অসম্ভব। সকলেরই এটি হবে। গোটা পৃথিবীর ছবি দেখেই তা বোঝা যাচ্ছে।’ পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন, কোভিড মোটেই আর কোনও ভয় পাওয়ার মতো অসুখ নয়। ক্রমশ এর ক্ষমতা কমে এসেছে। এখন হাসপাতালে ভর্তি না হয়েও একে সামলানো যায়। মানুষও বুঝে গিয়েছেন, কী করে এটিকে নিয়ে চলতে হবে। ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রন যথেষ্টই কম ক্ষতিকারক।

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট সারাবিশ্বে যেমন আতঙ্ক তৈরি করেছে, তেমনি এটি করোনার ভয়াবহতা কমিয়ে আনছে। যা মহামারিকে দুর্বল করে তা শেষ করা পথে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এখনই আক্রান্ত ও মৃতের ঘটনা ঘটছে। এখনই নিশ্চিন্ত হবার কোন কারণ নেই।

সবাইকে ভ্যাকসিন কর্মসূচির মধ্যে আনতে সরকার খুবই তৎপর। জনগণের মধ্যেও ভ্যাকসিন অনীহা অনেকটাই কেটেছে, শুরু হয়েছে বুস্টার ডোজের কর্মসূচিও। তবে সব কথার শেষ কথা হচ্ছে, কঠোরভাবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধিসহ ঘোষিত নানা নির্দেশনা। তাহলেই করোনাকে মানিয়ে জীবনযাত্রা হয়ে উঠবে অনেকটাই নিরাপদ ও স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন