চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দারিদ্রের হার কমলেও সন্তুষ্ট হওয়ার মত নয়: অর্থমন্ত্রী

দারিদ্রের হার কমিয়ে আনা কৃতিত্বের বিষয় হলেও সন্তুষ্ট হওয়ার মতো নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ৬ দিনব্যাপী ‘উন্নয়ন মেলা-২০১৭’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের একমাত্র লক্ষ্যমাত্রা বলা যেতে পারে দারিদ্র বিমোচন। দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় বাংলাদেশে দারিদ্রের হার ছিল ৭০ শতাংশ। এখন সেই হার সাড়ে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। সেটা কৃতিত্বের বিষয়। কিন্তু সন্তুষ্ট হওয়ার মতো নয়। কারণ এখনও তিন কোটি মানুষ দরিদ্র রয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নে নিবেদিত উল্লেখ করে আব্দুল মুহিত বলেন, বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো- এই সরকার শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে সম্পূর্ণভাবে মানব সেবায় নিবেদিত। আর যতদিন পর্যন্ত এই ভাবে নিবেদিত থাকবে ততদিন এ দেশের উন্নয়ন হবে। মানুষের দু:খ-দুদর্শা, দারিদ্র বিমোচন হবে।

২০২৪ সালের পর দেশে দরিদ্র থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সুখি-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি। এই স্বপ্নটা বেশি দূরে নয়। এদেশ থেকে কখন দারিদ্র সম্পূর্ণভাবে দূর হবে সেই সময় নির্ধারণ করে দিতে পারি। আমার হিসাবে, ২০২৪ সালের পর দেশে আর কোনো দরিদ্র থাকবে না।

পিকেএসএফর প্রশাংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো রকম বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াই নিজের উদ্যোগ যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের যে ক্ষুদ্র ঋণ দিয়েছে তার সম্পূর্ণটা যোগান দেয় সরকার। এরপর প্রতিষ্ঠানটির কাজের ধারা সবার দৃষ্টি কাড়ে। তারপরই বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

ইতিমধ্যে পিকেএসএফ ৫২ হাজার কর্মী তৈরি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, পিকেএসএফ ২০০৯ সালে সমৃদ্ধি নামের আরো একটি কার্যক্রম হাতে নেয়। নামেই প্রকল্পটির পরিচয় পাওয়া যায়। যার মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টা চলছে। সরকারও মনে করে দারিদ্র দূর করার জন্য সমৃদ্ধিই দরকার।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমরা জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজি অর্জন করেছি। এখন শেখ হাসিনার সরকার এসডিজি বাস্তবায়নে কাজ করছে। উন্নয়নের ইতিহাস ঘাঁটলে জনগণ দেখতে পাবে কারা উন্নয়ন করেছে।

কৌশলে নারীদের জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মেয়েরা যেন হাত বদলের জিনিস না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। জঙ্গিবাদ ও তাদের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা দিতে হবে। তাদের ঘুরে দাঁড়াতে সবার এগিয়ে আসা উচিত।

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম চালু করেছে উল্লেখ করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আজ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ মোবাইল সহজে মোবাইল ব্যবহার করছে। এই সুবিধা আওয়ামী লীগই চালু করে।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুতে যাতে অর্থায়ন করা না হয় সেজন্য দেশ-বিদেশে অনেক মিথ্যা প্রচারণা করা হয়েছে। কিন্তু আজ পদ্মা সেতু মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের সহায়তা নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়া বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও হতদরিদ্র কয়েকজন তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী বর্ণনা করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রান্তিক পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রারণের লক্ষ্যে ছয় দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা ‍শুরু হয়েছে আজ থেকে। চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও আইটি, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৯০টি প্রতিষ্ঠাননের ১৩৩টি স্টল মেলায় অংশ নিয়েছে।

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচলক মো. আবদুল করিমসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা  উপস্থিত ছিলেন।